বিশেষ প্রতিবেদক
দেশব্যাপী ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বিশেষ করে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে জল, স্থল এবং ভবনের ছাদ—এই তিন স্তরে সমানভাবে নজরদারি চালানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে চিকিৎসকদের পরামর্শ দিয়েছেন মন্ত্রী।
রবিবার (৭ জুন, ২০২৬) রাজধানী ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) আয়োজিত ‘ডেঙ্গুর আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক এক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশে বর্ষা মৌসুম শুরুর প্রাক্কালে ডেঙ্গুর সম্ভাব্য প্রকোপ প্রতিরোধ এবং চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সামগ্রিক ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এটি একক কোনো মন্ত্রণালয় বা সংস্থার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বিস্তার রোধে সারা দেশের নালা-নর্দমা, খাল এবং বদ্ধ জলাশয়গুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা জরুরি। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে হলে স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং সাধারণ জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি সিটি করপোরেশনগুলোকে মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করার তাগিদ দেন এবং সতর্ক করে বলেন, যেকোনো একটি পক্ষের সামান্য গাফিলতি বা ভুলের কারণে পুরো প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যর্থ হতে পারে।
চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আলোকপাত করে মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জটিলতা, বিশেষ করে প্লাজমা লিকেজ (রক্তরস নিঃসরণ) প্রতিরোধে চিকিৎসকদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। ডেঙ্গুর তীব্রতর রূপ বা ‘ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার’ রোগীদের ক্ষেত্রে প্লাজমা লিকেজ একটি অন্যতম প্রধান জটিলতা, যা সময়মতো নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে রোগীর শক সিন্ড্রোম হতে পারে। এই ধরনের জটিল পরিস্থিতি এড়াতে চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক ও জাতীয় গাইডলাইন মেনে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে চিকিৎসা সেবা প্রদানের আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষ অংশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বলেন, যেভাবে দেশের মানুষ সম্মিলিতভাবে অতীতে বড় বড় সংকটের মুখোমুখি হয়েছে এবং বিজয় অর্জন করেছে, ঠিক একইভাবে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ডেঙ্গু পরিস্থিতিও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তিনি প্রতিটি পরিবারকে নিজ নিজ বাসস্থান এবং চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
কর্মশালায় দেশের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ, জনস্বাস্থ্য বিজ্ঞানী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা ডেঙ্গুর জিনোম সিকোয়েন্সিং, মশার ওষুধের কার্যকারিতা এবং হাসপাতালে শয্যা ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রাক-বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আগেই মশক নিধন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে আসন্ন মাসগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।