জাতীয় ডেস্ক
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত দুই প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটায় (৭ জুন) বৈরুতের রফিক হারিরি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি বিশেষ ফ্লাইটে মরদেহ দুটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। নিহত প্রবাসীরা হলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের আফসার আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম (৪০) এবং একই জেলার আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের মো. আবদুল কাদেরের ছেলে মো. নাহিদুল ইসলাম (২৫)।
বিমানবন্দরে নিহতদের স্বজনদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে মরদেহ গ্রহণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সরকারি আনুষ্ঠানিকতা এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মরদেহ দুটি নিহতদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সযোগে মরদেহগুলো তাদের নিজ গ্রাম সাতক্ষীরায় পাঠানো হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ মে স্থানীয় সময় দুপুরে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ অঞ্চলের জিবদিন এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি বাহিনী ড্রোন হামলা চালায়। কর্মস্থল সংলগ্ন ওই আবাসস্থলে অবস্থানকালে শফিকুল ও নাহিদুল ঘটনাস্থলেই নিহত হন। ওই হামলায় একজন সিরীয় নাগরিকসহ আরও কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা প্রাণ হারান। ঘটনার পর থেকে মরদেহ দুটি বৈরুতের একটি হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত ছিল। বৈরুতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইনি প্রক্রিয়া, ছাড়পত্র এবং প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।
মরদেহ হস্তান্তরকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাতময় পরিস্থিতিতে লেবাননে এখন পর্যন্ত মোট ১০ জন প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সাতজনের মরদেহ সরকারি উদ্যোগে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। লেবাননে অবস্থানরত অবশিষ্ট নিহত নাগরিকদের মরদেহও দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা ও আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে নিহত দুই প্রবাসীর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতি বিবেচনা করে মরদেহ পরিবহনের সম্পূর্ণ ব্যয় বহনের পাশাপাশি নিহতদের পরিবার দুটিকে পুনর্বাসন ও তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে মোট ১৩ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করা হবে। এ ছাড়া লেবাননে অবস্থানরত অন্যান্য বাংলাদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাস সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে।
বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সীমান্ত সংঘর্ষ এবং সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের তীব্রতা বৃদ্ধির ফলে প্রবাসী কর্মীরা চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছেন। বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, যেসব প্রবাসী কর্মী দেশে ফিরে আসতে ইচ্ছুক কিংবা যাদের পাসপোর্ট ও ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে, তাদের আইনি সহায়তা দিয়ে নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করতে সরকার কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এ ধরনের হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং বিশ্বমঞ্চে এর তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।