1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ১৫ শতাংশ বাড়িভাড়ার নতুন হার কার্যকর স্বাধীনতার ৫৪ বছর: ফুটবলের আবেগের বাইরে বাংলাদেশ-লাতিন আমেরিকার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিবর্তন সারাদেশে সোয়া ৭ কোটির বেশি নাগরিক পেলেন স্মার্টকার্ড নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁসমুক্ত পরিবেশে এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন চলতি বছরের ফিরতি হজ ফ্লাইট সম্পন্ন, দেশে ফিরেছেন ৭৯ হাজার ১০০ হাজি সারাদেশে ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও একজনের মৃত্যু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে মেট্রোরেল চলাচল ৩ ঘণ্টা বন্ধ দেশে ক্যাশলেস লেনদেন সম্প্রসারণে বাধ্যতামূলকভাবে চালু হলো ‘বাংলা কিউআর’ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিরাপত্তায় মোতায়েন হচ্ছে ৫ হাজার আনসার সদস্য অনলাইন জুয়া ও বেটিং রুখতে সংসদে নতুন আইন পাস, সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড

ঢাকার পরিবেশ রক্ষায় জবাবদিহিতা ও কাঠামোগত পরিবর্তনের তাগিদ স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬
  • ২৮ বার দেখা হয়েছে

রাজধানী ডেস্ক

ঢাকা শহরের ক্রমবর্ধমান পরিবেশ দূষণ রোধে শুধু নাগরিক সচেতনতা নয়, বরং উন্নয়ন পরিকল্পনাকারীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে তিনি বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করতে কার্যকর প্রকল্প গ্রহণ এবং নগরীর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও কাঠামোগত পরিবর্তনের আহ্বান জানান। গতকাল শনিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আয়োজিত ‘দক্ষিণের জানালা’ নামক একটি কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী রাজধানী ঢাকার বর্তমান বাসযোগ্যতার সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বায়ুদূষণ ও নাগরিক সেবার মান কমে যাওয়ার কারণে ঢাকা শহর ক্রমশ সাধারণ মানুষের জন্য বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, নাগরিকরা যাতে দীর্ঘায়ু লাভ করতে পারেন, সে জন্য দূষণমুক্ত অক্সিজেন নিশ্চিত করা এবং বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলার জন্য একটি সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন প্রয়োজন। এই ধরনের উদ্যোগ নগরবাসীকে সচেতন ও আলোড়িত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বক্তব্যে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঢাকা শহরের উন্নয়নে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে এসব প্রকল্প থেকে সাধারণ নগরবাসী ও নাগরিকরা প্রকৃতপক্ষে কতটুকু সুফল পাচ্ছেন, তা মূল্যায়ন করা জরুরি। কেবল প্রকল্প শেষ করার মানসিকতা থেকে বের হয়ে এসে দীর্ঘমেয়াদি সুফলের দিকে নজর দেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিটি করপোরেশনের স্বায়ত্তশাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বিশ্বের উন্নত নগরীগুলো নির্বাচিত মেয়র ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও এসব প্রতিষ্ঠানে দেশপ্রেম ও গভীর দায়িত্ববোধের সাথে কাজ করা প্রয়োজন।

ঢাকার পরিবেশের অন্যতম প্রধান উপাদান নদীগুলোর বিপর্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, এক সময় বুড়িগঙ্গা নদী নগরবাসীর বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র থাকলেও বর্তমানে অতিরিক্ত দূষণ ও দুর্গন্ধের কারণে এর তীরবর্তী এলাকায় প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বুড়িগঙ্গার পর এখন শীতলক্ষ্যা নদীও একই ধরনের দূষণের শিকার হচ্ছে, যা সামগ্রিকভাবে রাজধানীর পরিবেশকে বিপন্ন করছে। তুরাগ ও বুড়িগঙ্গাসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে বাঁচাতে অতি দ্রুত কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

নদী দূষণের পাশাপাশি ঢাকার সুপেয় পানির সংকটকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে অভিহিত করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। সাম্প্রতিক একটি মন্ত্রিসভা বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, ঢাকা শহরের সরবরাহকৃত পানির একটি বড় অংশই সরাসরি পানের উপযোগী নয়। এর চেয়েও বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, রাজধানীতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য একটি ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এই সংকট মোকাবিলায় ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং নদীগুলোর পানি পরিশোধনযোগ্য করার ওপর জোর দেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব এবং জলাশয় ভরাটের কারণে ঢাকা বিশ্বের অন্যতম দূষিত নগরীতে পরিণত হয়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর এই বক্তব্য নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, ঢাকার চারপাশের নদী ও পানির স্তর রক্ষা করতে না পারলে আগামী কয়েক দশকে এই মেগাসিটি এক চরম মানবিক ও পরিবেশগত সংকটের মুখোমুখি হবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026