নিজস্ব প্রতিবেদক
পবিত্র হজ পালন শেষে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, সৌদি এয়ারলাইনস ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ৭১টি ফিরতি ফ্লাইটে এখন পর্যন্ত সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন ২৯ হাজার ৬৯৪ জন বাংলাদেশি হাজি। তবে হজের আনুষ্ঠানিকতা ও অবস্থানকালীন সময়ে এখন পর্যন্ত সর্বমোট ৪৬ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে ইন্তেকাল করেছেন। এর মধ্যে ৩০ জন পুরুষ ও ১৬ জন নারী রয়েছেন। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, মক্কায় ৩৫ জন এবং মদিনায় ১১ জন মৃত্যুবরণ করেন। আজ শুক্রবার (৫ জুন) ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ বুলেটিন সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও হজ ব্যবস্থাপনা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের গত ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি হজযাত্রীর জন্য কোটা নির্ধারিত ছিল। হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাত্রা শুরু হয়েছিল গত ১৮ এপ্রিল এবং সর্বশেষ ফ্লাইট ঢাকা ত্যাগ করে ২১ মে। হজের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর গত মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে হাজিদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়, যা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত হজ বুলেটিনের বিস্তারিত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশে ফিরে আসা হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনার ৩ হাজার ৩২৮ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনার ২৬ হাজার ৩৬৬ জন রয়েছেন। বিমান সংস্থাগুলোর পরিবহন সূচি অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এখন পর্যন্ত ৯ হাজার ৯৮১ জন, সৌদি এয়ারলাইনস ১১ হাজার ৩৩১ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ৭ হাজার ৭০০ জন হাজিকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনেছে। এর বাইরে অন্যান্য চার্টার্ড ও নিয়মিত এয়ারলাইনসের মাধ্যমে আরও ৬৮২ জন হজযাত্রী দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন।
এদিকে সৌদি আরবে অবস্থানরত অবশিষ্ট হাজিদের চিকিৎসা ও আইটি সেবা প্রদান কার্যক্রম পুরোদমে চালু রেখেছে বাংলাদেশ হজ মিশন। মক্কা ও মদিনার চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে এ পর্যন্ত হাজিদের জন্য ৫৬ হাজার ৩১২টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) ইস্যু করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে হাজিদের হারিয়ে যাওয়া লাগেজ উদ্ধার ও দিকনির্দেশনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ২৫ হাজার ৭১০টি জরুরি সেবা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে এ পর্যন্ত মোট ২৬২ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী চিকিৎসা নিয়েছেন এবং বর্তমানে ২৪ জন হাজি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজযাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ হজ মিশন, সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। আগামী ৩০ জুন শেষ ফিরতি ফ্লাইটের মাধ্যমে এ বছরের হজ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে।