ক্রীড়া প্রতিবেদক
জার্মান বুন্দেসলিগার শিরোপা দৌড়ে নিজেদের আধিপত্য আরও সুসংহত করল বায়ার্ন মিউনিখ। শনিবার রাতে মেইনজের বিপক্ষে নাটকীয় এক লড়াইয়ে প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও দ্বিতীয়ার্ধে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে ভিনসেন্ট কোম্পানির শিষ্যরা। এই জয়ের ফলে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলের সঙ্গে বায়ার্নের পয়েন্ট ব্যবধান এখন দাঁড়িয়েছে ১৮-তে।
মেইনজের ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই ছন্নছাড়া ছিল বাভারিয়ানদের রক্ষণভাগ। নিয়মিত একাদশের আটজন খেলোয়াড়কে বিশ্রামে রেখে মাঠে নামা বায়ার্নকে শুরুতেই চরম মূল্য দিতে হয়। ম্যাচের ১৫ মিনিটে ডমিনিক কোহরের গোলে লিড নেয় স্বাগতিক মেইনজ। এরপর ২৯ মিনিটে পল নেবেল গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করলে বড় হারের শঙ্কায় পড়ে বায়ার্ন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে শেরাল্ডো বেকেরের লক্ষ্যভেদে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় মেইনজ। পরিসংখ্যান বলছে, প্রথমার্ধে বায়ার্নের একটি শটও গোল অভিমুখে ছিল না।
বিরতির পর দলের খেলায় গতি আনতে ভিনসেন্ট কোম্পানি মাঠে নামান নিয়মিত তারকা হ্যারি কেইন ও মাইকেল ওলিসেকে। এই পরিবর্তনই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩ মিনিটে নিকোলাস জ্যাকসন প্রথম গোল করে বায়ার্নের প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দেন। এরপর শুরু হয় বাভারিয়ানদের মুহুর্মুহু আক্রমণ। ম্যাচের ৭৩ মিনিটে মাইকেল ওলিসে এবং ৮১ মিনিটে জামাল মুসিয়ালা গোল করলে সমতায় ফেরে বায়ার্ন মিউনিখ।
ম্যাচের ৮৩ মিনিটে মেইনজের স্তব্ধ দর্শকদের সামনে জয়সূচক গোলটি করেন বর্তমান লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হ্যারি কেইন। চলতি মৌসুমে এটি তার ৩৩তম গোল। শেষ পর্যন্ত ৪-৩ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বায়ার্ন মিউনিখ। ম্যাচে বায়ার্ন প্রায় ৭০ শতাংশ সময় বল দখলে রাখলেও মেইনজ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে। স্বাগতিকরা পুরো ম্যাচে ২১টি শট নেয়, যার ৮টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে বায়ার্ন ১১টি শটের মধ্যে ৬টি লক্ষ্যে রেখে ৪টি গোল আদায় করে নেয়।
এই জয়ের পর ৩১ ম্যাচে ২৬ জয় ও চার ড্রয়ে বায়ার্ন মিউনিখের সংগ্রহ এখন ৮২ পয়েন্ট। এক ম্যাচ কম খেলে ৬৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড। অন্যদিকে, হারলেও ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দশম স্থানে অবস্থান করছে মেইনজ। বুন্দেসলিগার শিরোপা লড়াইয়ে এখন কেবল আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষায় বায়ার্ন। যেভাবে তারা বড় ব্যবধানের জয় পাচ্ছে, তাতে খুব শীঘ্রই ট্রফি নিশ্চিত করার পথে রয়েছে বাভারিয়ানরা। তবে দলের প্রধান একাদশে বড় রদবদল করলে যে রক্ষণভাগ দুর্বল হয়ে পড়ে, মেইনজের বিপক্ষে প্রথমার্ধের পারফরম্যান্স দলের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।