1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরির নেপথ্যে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার গোষ্ঠী, শঙ্কায় ডিজিটাল মুদ্রাবাজার তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে স্কাউটসের ভূমিকা অনস্বীকার্য: প্রধানমন্ত্রী মার্কিন নৌ অবরোধের প্রভাব নেই ইরানের খাদ্য ও নিত্যপণ্য সরবরাহে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে নিয়মিত ফ্লাইট চালু করল ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স রাজনীতি ও গণমাধ্যম জবাবদিহিতার আওতায় এলে সমাজ জেন্ডার সংবেদনশীল হবে: তথ্যমন্ত্রী আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বহুমুখী তৎপরতা আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বহুমুখী তৎপরতা এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬: ক্যালকুলেটর ও হাতঘড়ি ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি লেবাননে মানবিক সংকট মোকাবিলায় ৫০০ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা চাইলেন নাওয়াফ সালাম প্রাথমিক শিক্ষাকে পর্যায়ক্রমে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার পরিকল্পনা সরকারের

জ্বালানি নিরাপত্তা ও কৃষি সহযোগিতায় কানাডার সাসকাচোয়ানের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বে আগ্রহী বাংলাদেশ

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং উৎসে বৈচিত্র্য আনার লক্ষ্যে কানাডার সাসকাচোয়ান প্রদেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের জোরালো আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। এই দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার আওতায় প্রচলিত জ্বালানি ও পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির পাশাপাশি উদীয়মান ‘স্মল মডুলার রিঅ্যাক্টর’ (এসএমআর) খাতকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে। সম্প্রতি কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. জসিম উদ্দিনের সাসকাচোয়ান প্রদেশ সফরকালে উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই নতুন অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সম্পর্কের রূপরেখা উঠে আসে।

সফরের মূল অংশে হাইকমিশনার সাসকাচোয়ানের প্রিমিয়ার স্কট মো-এর সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে হাইকমিশনার কৃষি, খাদ্যপণ্যের মূল্য শৃঙ্খল (ভ্যালু চেইন), গবেষণা এবং জ্বালানি খাতে সমন্বিত সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি ‘বাংলাদেশ-সাসকাচোয়ান সহযোগিতা কাঠামো’ গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রিমিয়ার স্কট মো এই প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি উভয় মেয়াদে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। উক্ত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রাদেশিক বাণিজ্য ও রপ্তানি উন্নয়নমন্ত্রী ওয়ারেন কেইডিং উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাহিদা মেটাতে জ্বালানি মিশ্রণে (এনার্জি মিক্স) বৈচিত্র্য আনা এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এই প্রেক্ষাপটে হাইকমিশনার জসিম উদ্দিন প্রদেশটির জ্বালানি সম্পদমন্ত্রী ক্রিস বড্রি এবং কৃষিমন্ত্রী ডেভিড ম্যারিটের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন। আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় ছোট আকারের মডুলার রিঅ্যাক্টর বা এসএমআর প্রযুক্তির অমিত সম্ভাবনা। এটি এমন একটি আধুনিক পারমাণবিক প্রযুক্তি যা প্রথাগত বৃহৎ বিদ্যুৎকেন্দ্রের তুলনায় কম জায়গার প্রয়োজন হয় এবং পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনে অত্যন্ত কার্যকর বলে স্বীকৃত। উভয় পক্ষ এই বিশেষায়িত খাতে কারিগরি সহযোগিতা, যৌথ গবেষণা এবং প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তাকে দুই অঞ্চলের মধ্যকার সম্পর্কের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে সাসকাচোয়ান থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পটাশ সার ও বিভিন্ন অত্যাবশ্যকীয় কৃষি পণ্য আমদানি করে থাকে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ খাদ্য উৎপাদন ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বৈঠকে কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এবং ক্যানোলা-ভিত্তিক ভোজ্য তেল উৎপাদনের মতো মূল্য সংযোজন খাতে কানাডীয় বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য আদান-প্রদান করা হয়। এছাড়া সাসকাচোয়ান ট্রেড অ্যান্ড এক্সপোর্ট পার্টনারশিপ (স্টেপ), সাস্কপাওয়ার এবং পেট্রোলিয়াম টেকনোলজি রিসার্চ সেন্টার (পিটিআরসি)-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা হয়।

কূটনৈতিক এই তৎপরতায় একাডেমিক এবং সামাজিক সংযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলোও সমান গুরুত্ব পেয়েছে। হাইকমিশনার ইউনিভার্সিটি অব রেজিনার প্রেসিডেন্ট ড. জেফ কেশনের সঙ্গে বৈঠকে উচ্চশিক্ষা ও পেশাদার দক্ষতা উন্নয়নে দ্বিপাক্ষিক শিক্ষা বিনিময় কর্মসূচির আহ্বান জানান। এছাড়া রেজিনায় অবস্থিত গভর্নমেন্ট হাউসে লেফটেন্যান্ট গভর্নর বার্নাডেট ম্যাকইনটাইর তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সফরকালে সাসকাচোয়ান আইনসভার অধিবেশনে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়, যা দুই দেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সফরের মধ্য দিয়ে কানাডার একটি সম্পদশালী প্রদেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সম্পর্ক নতুন স্তরে উন্নীত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি নিশ্চিত করা এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রসার ঘটলে তা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। দুই দেশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মধ্যে পরবর্তী পর্যায়ে এই প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা বা ‘রোডম্যাপ’ প্রণয়ন নিয়ে কাজ করার বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতি জ্ঞাপন করা হয়েছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026