শিক্ষা ডেস্ক
নড়াইলের পূর্ব কালিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সরকারের ‘স্কুল ফিডিং কর্মসূচি’ বা ‘মিড ডে মিল’ প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই কর্মসূচি শিশুদের বিদ্যালয়ে আগ্রহ বৃদ্ধি এবং নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি জানান, এটি সুস্থ, শিক্ষিত ও সচেতন প্রজন্ম গড়ে তোলায় সহায়ক হবে।
সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, দেশের প্রাথমিক শিক্ষায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি একটি সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে পরিচিত। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিদ্যালয়ে শিশুদের উপস্থিতি এবং শিক্ষায় মনোযোগ বৃদ্ধি করা। এই কর্মসূচির আওতায় নির্দিষ্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হবে, যা দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিশুদের জন্য বিশেষ সহায়ক হবে। ফলে শিশুদের অপুষ্টির ঝুঁকি কমবে এবং তারা স্কুলে নিয়মিত উপস্থিতি বজায় রাখতে পারবে। এছাড়া, এই উদ্যোগ অভিভাবকদের মধ্যে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানোর আগ্রহও বৃদ্ধি করবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জিন্নাতুল ইসলাম। মূল বক্তব্য দেন উন্নয়ন সংস্থা ‘সুশীলন’-এর নির্বাহী প্রধান মোস্তফা নুরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম এবং সুশীলনের উপপরিচালক ও প্রকল্প ফোকাল শাহিনা পারভিন। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, উন্নয়নকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা জানান, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির কারিগরি সহায়তা এবং বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘সুশীলন’ কালিয়া উপজেলার ১৫৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৮ হাজার ২৩৭ জন শিক্ষার্থীকে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ শুরু করেছে।
এ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা টিফিনে পুষ্টিকর বনরুটি, কলা বা স্থানীয় মৌসুমি ফল, সিদ্ধ ডিম, ফর্টিফাইড বিস্কুট এবং ইউএইচটি দুধ পাবেন। সুশীলনের নির্বাহী প্রধান মোস্তফা নুরুজ্জামান বলেন, এই খাদ্য সরবরাহ শিক্ষার্থীদের অপুষ্টি দূর করতে, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি করতে এবং ঝরে পড়া রোধ করতে সহায়ক হবে। এতে শিশুদের প্রয়োজনীয় শক্তি, প্রোটিন ও ভিটামিনের যোগান হবে, যা শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক।
প্রকল্পের ধারাবাহিকতায় পর্যায়ক্রমে দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। সুশীলনসহ সংশ্লিষ্ট সকল অংশীদার এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নের জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করবে।