1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বুধবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত, অন্য বোর্ডে যথারীতি চলবে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রেলপথ নিমজ্জিত, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ট্রেন চলাচল বন্ধ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক সংঘাত এবং তেলের বাজারে অস্থিরতা পাহাড় ধসের শঙ্কা: সাজেক ভ্যালিতে পর্যটন সাময়িক বন্ধ ঘোষণা হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বিমান হামলা, তীব্র উত্তেজনার মুখে মধ্যপ্রাচ্য আরব সাগরে ৫ আরোহীসহ পাকিস্তানি কার্গো বিমান নিখোঁজ, চলছে তল্লাশি টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের থানচিতে আটকে পড়া ১০৮ পর্যটক নিরাপদে উদ্ধার আয়াতুল্লাহ খামেনির বিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ইরাকে ইরানের রাষ্ট্রপতি, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের প্রত্যাশা খাদ্যপণ্যের দাম কমায় জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হ্রাস সিলেটে মার্কিন বিনিয়োগ ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারে বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের থানচিতে আটকে পড়া ১০৮ পর্যটক নিরাপদে উদ্ধার

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬
  • ১২ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

বান্দরবানের থানচি উপজেলার নাফাখুম, আমিয়াখুম ও তিন্দুসহ বিভিন্ন দুর্গম পর্যটনকেন্দ্রে টানা প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে আটকে পড়া ১০৮ জন পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধার করে উপজেলা সদরে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকালের পর থেকে পর্যায়ক্রমে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এবং স্থানীয় ট্যুর গাইডদের সহায়তায় তাদের থানচি সদরে নিয়ে আসা হয়। উদ্ধার হওয়া পর্যটকদের সবাই বর্তমানে সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং সুস্থ আছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।

থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল ফয়সাল জানান, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে বৃষ্টিপাত সাময়িক বন্ধ হলে সাঙ্গু নদীর পানি কমতে শুরু করে। পরিস্থিতি অনুকূলে আসায় স্থানীয় প্রশাসনের বিশেষ নির্দেশনায় ও স্থানীয় গাইডদের তৎপরতায় আটকে পড়া পর্যটকদের নদীপথে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিকালের মধ্যে ৯০ জনের একটি বড় দলকে থানচি সদরে আনা সম্ভব হয়। এর বাইরে আমিয়াখুমে আটকে থাকা ১৮ জনের আরেকটি পৃথক দল দুপুরের দিকে রওনা হয়ে সন্ধ্যার পর থানচি উপজেলা সদরে এসে পৌঁছায়। সব মিলিয়ে মোট ১০৮ জন পর্যটককে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে জানা যায়, গত ৫ জুলাই রোববার সকালে ১০ জন নিবন্ধিত গাইডের তত্ত্বাবধানে পর্যটকদের কয়েকটি দল থানচি সদর থেকে পর্যটনকেন্দ্র রেমাক্রির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। কিন্তু ওই দিন ও তার পরবর্তী সময়ে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে প্রবল ও টানা বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এর ফলে পাহাড়ি ঢল নেমে সাঙ্গু নদীর পানির স্তর অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পায় এবং নদী উত্তাল হয়ে ওঠে। পানির তীব্র স্রোতের কারণে পর্যটক বহনকারী ইঞ্জিনচালিত নৌযানগুলো নদী পার হতে না পেরে মাঝপথে আটকে যায়। এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে গাইডরা পর্যটকদের সুরক্ষার্থে নাফাখুমের নিকটবর্তী রেমাক্রি এলাকায় নিরাপদ আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন।

তিন্দু ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মংপ্রু অং মারমা জানান, সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় রোববার ও সোমবার কোনো নৌযান চলাচল করতে পারেনি। ফলে পর্যটকরা তিন্দু ও রেমাক্রির বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়েন। এদের মধ্যে একটি বড় দল সোমবার সন্ধ্যায় তিন্দুর শিলাগিরি রিসোর্টে আশ্রয় নেয়। পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় পর্যটকদের এমন আকস্মিক বিপদের কথা বিবেচনা করে মানবিক কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে তাদের বিনামূল্যে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি অত্যন্ত সুলভ মূল্যে তাদের তিনবেলার খাবারের সুব্যবস্থাও নিশ্চিত করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণে বর্ষাকালে সাঙ্গু নদী অত্যন্ত বিপজ্জনক রূপ ধারণ করে। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসের ঘটনা নিয়মিত ঘটে থাকে, যা দুর্গম অঞ্চলগুলোতে যোগাযোগব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এ বছরও আষাঢ়ের শেষ ও শ্রাবণের শুরুতে টানা বর্ষণে পাহাড়ের নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের চলাচলে বিশেষ সতর্কতা জারির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বর্ষা মৌসুমে পর্যটকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থানচির দুর্গম পর্যটন স্পটগুলোতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়া ও অতিবৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলে পর্যটকদের সাঙ্গু নদীর উজানে না যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। একই সাথে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় বোট মালিক সমিতি ও ট্যুর গাইডদের আরও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং পর্যটকরা যার যার গন্তব্যে ফিরে যেতে শুরু করেছেন।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026