সারাদেশ ডেস্ক
টানা ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় রাঙামাটির অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ‘সাজেক ভ্যালি’ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের কারণে বাঘাইছড়ি উপজেলার সঙ্গে সাজেকের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পর্যটক ও স্থানীয় জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালিসহ জেলার সব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটকদের যাতায়াত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে অব্যাহত ভারী বর্ষণ হচ্ছে। এর ফলে জেলার বিভিন্ন স্থানে ইতিমধ্যে ছোট-বড় ভূমিধস ও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। পাহাড়ি ঢলের কারণে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিদ্যমান এই আবহাওয়ায় সম্ভাব্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালি পর্যটন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে সাজেক ভ্যালির মূল পর্যটন কেন্দ্র ছাড়াও বাঘাইছড়ি উপজেলার আওতাধীন সকল ঝর্ণা, পাহাড়ি ট্রেইল, দুর্গম এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর গাইড এবং ট্যুর অপারেটরসহ সর্বসাধারণের প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে। এ ছাড়াও সমগ্র জেলায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর পরই রাত ৯টার দিকে সাজেক সড়কের একটি বড় অংশে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এতে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সঙ্গে সাজেক ভ্যালির সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। আকস্মিক এই ভূমিধসের ফলে সড়কের উভয় পাশে বেশ কিছু যানবাহন আটকা পড়েছে। সড়ক যোগাযোগ পুনরায় সচল করতে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মীরা স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় উদ্ধারকাজ শুরু করেছেন। তবে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় মাটি সরানোর কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
পার্বত্য জেলাগুলোতে বর্ষাকালে পাহাড় ধস একটি নিয়মিত দুর্যোগে পরিণত হয়েছে। ভৌগোলিক গঠন এবং অনিয়ন্ত্রিত পাহাড় কাটার কারণে ভারী বৃষ্টিপাত হলে মাটির ধারণক্ষমতা কমে যায়, যার ফলে এই ধরনের ধসের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে সাজেক সড়কটি পাহাড় কেটে তৈরি হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এর আগেও একাধিকবার ভারী বর্ষণের কারণে সাজেক সড়কে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে শত শত পর্যটক সাজেকে আটকে পড়েছিলেন।
স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশবিদদের মতে, চলমান বৈরী আবহাওয়ায় পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণ অত্যন্ত বিপজ্জনক। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের বড় বিপর্যয় এড়াতে জেলা প্রশাসনের এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা একটি প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। সড়ক বিভাগ জানিয়েছে, বৃষ্টি কমলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মাটি সরিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।