আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালি অঞ্চলে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ওমান উপসাগরে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার জের ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা শুরু করার পর এই বিস্ফোরণগুলো ঘটে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নৌপথে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় এবং বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি হামলার জাবাবে এই ‘শক্তিশালী’ ও সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত ইরানের কৌশলগত দ্বীপ কেশমে অন্তত ৬টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর পাশাপাশি দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক শহরে ৭টি এবং অন্যতম প্রধান বন্দর নগরী বন্দর আব্বাসে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলায় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং বিভিন্ন বন্দর অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এই সামরিক পদক্ষেপের পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা জারি করে বলা হয়েছে, নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা এবং স্বার্থ রক্ষায় ইরান চূড়ান্ত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ইরান সরকারের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, মার্কিন প্রশাসন এই হামলা ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে তা বারবার লঙ্ঘন করেছে।
এর আগে ওমান উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক নৌপথে চলাচলকারী তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে পৃথক হামলার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে একটি ট্যাংকারে অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে আগুন ধরে যায় এবং অন্য দুটি জাহাজে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এই ঘটনার পর পরই মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের ওপর তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির ক্ষেত্রে দেওয়া সাময়িক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুবিধা বা ছাড় বাতিল ঘোষণা করে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সামুদ্রিক নিরাপত্তার ওপর আঘাত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর জন্য ইরানকে চড়া মূল্য দিতে হবে।
মূলত হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিয়ন্ত্রণ ও ফি আদায়ের বিষয়ে ওমান ও ইরানের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলছিল। ওমান সরকার তাদের উপকূল ঘেঁষে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য একটি নিরাপদ বিকল্প পথ তৈরির প্রস্তাব দিলেও ইরান এর তীব্র বিরোধিতা করে। তেহরানের অবস্থান ছিল, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী প্রতিটি জাহাজকে নির্দিষ্ট মাশুল বা ফি প্রদান করতে হবে। এই রেশ ধরেই সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি এবং শান্তি আলোচনা পুনরায় গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।