আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাঁচজন আরোহী নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে পাকিস্তানের করাচি আসার পথে আরব সাগরে একটি কার্গো বিমান নিখোঁজ হয়েছে। করাচি থেকে প্রায় ১৫৫ নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে অবস্থানকালে বিমানটির সঙ্গে কন্ট্রোল রুমের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঘটনার পর থেকে পাকিস্তান নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে সমুদ্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় বড় ধরনের অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিমান বা তার আরোহীদের কোনো সন্ধান মেলেনি।
পাকিস্তান এয়ারপোর্টস অথরিটি (পিএএ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে বিমানটির নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৩২ মিনিটে বিমানটির সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগ হয়েছিল। নিখোঁজ হওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ‘টিএ১৭৩২’ ফ্লাইটটি ৩৫ হাজার ফুট উচ্চতায় স্বাভাবিকভাবেই উড়ছিল। তবে আকস্মিকভাবে নেভিগেশন সিস্টেমে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বিমানটি করাচির দিকে না গিয়ে ইউ-টার্ন নেয়। এর মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে এটি ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকা অবস্থায় রাডার থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কার্গো বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
পাকিস্তান বিমান চলাচল সূত্র জানিয়েছে, নিখোঁজ হওয়া বিমানটি একটি বেসরকারি পাকিস্তানি কার্গো কোম্পানির পরিচালিত ২৭ বছরের পুরোনো বোয়িং ৭৩৭ মডেলের উড়োজাহাজ। সাধারণত এই ধরনের পুরোনো কার্গো বিমানগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি হলেও অনেক সময় কারিগরি জটিলতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিমানটিতে থাকা পাঁচজন ক্রু সদস্যের পরিচয় বা তাদের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে নিখোঁজ বিমান এবং এর আরোহীদের উদ্ধারে সামরিক ও বেসামরিক সব ধরনের সংস্থান কাজে লাগাচ্ছে পাকিস্তান সরকার। পাকিস্তান নৌবাহিনী গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের জন্য তাদের আধুনিক যুদ্ধজাহাজ ‘পিএনএস জুলফিকার’ ও ‘পিএনএস হুনাইন’ মোতায়েন করেছে। এর পাশাপাশি পাকিস্তান বিমানবাহিনীর বিশেষ সাব-নজরদারি বিমান আকাশ থেকে তল্লাশি চালাচ্ছে। একই সঙ্গে ওই সমুদ্রসীমায় চলাচলকারী ন্যাশনাল শিপিং কর্পোরেশনের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকেও উদ্ধার তৎপরতায় শামিল হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতি এবং গভীর সমুদ্রের বিশালতার কারণে উদ্ধার কাজে বেগ পেতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
পাকিস্তানের বিমান চলাচলের ইতিহাসে কার্গো বিমান দুর্ঘটনার নজির এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০১০ সালে করাচি বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পরপরই কারিগরি ত্রুটির কারণে আটজন আরোহীসহ একটি রুশ কার্গো বিমান নিকটবর্তী একটি আবাসিক এলাকায় বিধ্বস্ত হয়েছিল। সুদানের খার্তুমগামী ওই বিমানটির আরোহীদের সবাই সে সময় প্রাণ হারিয়েছিলেন। আরব সাগরে বর্তমান নিখোঁজ বিমানটির অনুসন্ধান প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে এবং কোনো ধ্বংসাবশেষ পাওয়া না গেলে এটি দক্ষিণ এশিয়ার সমুদ্র অঞ্চলের বিমান চলাচলের সুরক্ষায় নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা।