আন্তর্জাতিক ডেস্ক
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনার পর ইরানের তেল বিক্রির ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটন এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করার পাশাপাশি তেহরানকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতির জেরে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক এলাকায় মার্কিন সামরিক বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায় ইরান। এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়ে ওয়াশিংটনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেহরানকে এই উস্কানিমূলক আচরণের উপযুক্ত পরিণতি ভোগ করতে হবে। এই হামলার জবাবেই মঙ্গলবার রাতে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের অভ্যন্তরে নির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্যবস্তুতে শক্তিশালী পাল্টা হামলা চালায়। ইরানের স্থানীয় বার্তা সংস্থাগুলোও দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক এলাকায় একাধিক বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এর আগে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পাদিত একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানের তেল বিক্রির ওপর সাময়িক শিথিলতা বজায় রেখেছিল। তবে সাম্প্রতিক এই সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রশাসন আগের সময়সীমা তাৎক্ষণিকভাবে কমিয়ে এনে আগামী ১৭ জুলাই পর্যন্ত পুনর্নির্ধারণ করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল সরবরাহের পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে, যা বিশ্বজ্বালানি খাতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হওয়ায় এখানে যেকোনো ধরণের সামরিক সংঘাতের প্রভাব সরাসরি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পড়ে। আকস্মিক এই নিষেধাজ্ঞার ফলে জ্বালানি তেলের বাজারে যে ৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে, তা দীর্ঘমেয়াদে বজায় থাকলে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন সামরিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে বিশ্বনেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরুর তাগিদ দিচ্ছেন।