বিনোদন ডেস্ক
হলিউড অভিনেতা রবার্ট প্যাটিনসন এবার ধরা দিয়েছেন এক ভিন্ন ধরনের চরিত্রে, তার নতুন সিনেমা ‘দ্য ড্রামা’-য়। সিনেমাটি মূলত দাম্পত্য জীবনের জটিলতা, মানসিক দ্বন্দ্ব এবং নৈতিক প্রশ্নকে কেন্দ্র করে তৈরি একটি ‘ডার্ক কমেডি’।
সিনেমার গল্প আবর্তিত হয়েছে চার্লি (রবার্ট প্যাটিনসন) এবং এমা (জেনডায়া)-কে কেন্দ্র করে। চার্লি একজন ব্রিটিশ মিউজিয়াম কিউরেটর, যে খুব শীঘ্রই এমাকে বিয়ে করতে যাচ্ছে। শুরুতে তাদের সম্পর্কটি একটি সাধারণ দম্পতির মতো মনে হলেও, বিয়ের ঠিক এক সপ্তাহ আগে একটি ঘরোয়া আড্ডার সময় পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়। বন্ধুদের সঙ্গে ‘জীবনে করা সবচেয়ে খারাপ কাজ’ নিয়ে খেলার সময় এমা একটি সত্য স্বীকার করে, যা চার্লির মানসিক ভারসাম্যকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। এমা জানায়, কিশোর বয়সে সে প্রায় একটি বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি।
এই তথ্যের পর চার্লি মানসিক দ্বিধায় পড়ে যায় এবং নিজের ভবিষ্যত সম্পর্কে সংশয় দেখা দেয়। পরিচালক ক্রিস্টোফার বোরগলি সিনেমাটিকে নিজস্ব ঢঙে উপস্থাপন করেছেন। প্যাটিনসনের অভিনয় দর্শকদের সামনে একজন সাধারণ মানুষের মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে, যা একাধারে অস্বস্তিকর ও হাস্যকর। জেনডায়া তার ক্যারিশমার মাধ্যমে এমার চরিত্রকে রহস্যময় এবং জীবন্ত করেছেন।
সিনেমায় বিয়ের আগের নানা আনুষ্ঠানিকতা, যেমন নাচের রিহার্সাল বা মেন্যু নির্বাচন, ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে জাম্প-কাট এবং অদ্ভুত দৃশ্যপট, যা দর্শকদের পুরো সময় উত্তেজনার মধ্যে রাখে।
‘দ্য ড্রামা’ দর্শকদের সামনে একটি নৈতিক প্রশ্নও উপস্থাপন করে—বাস্তবে করা ছোট অপরাধ কি মনে-মানসে করা বড় অপরাধের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে? সিনেমার চূড়ান্ত অংশে চার্লি ও এমার সম্পর্কের পরিণতি ফুটে ওঠে, যা দর্শকদের নানা ভাবনার উদ্রেক করে।
সমালোচকদের মতে, এটি গতানুগতিক বিয়ের গল্প নয়; বরং এটি মানুষের মানসিক অন্ধকার, অসহজ উদ্বেগ এবং জটিল সম্পর্কের নিপুণ চিত্রায়ন। ভিন্নধর্মী এবং কিছুটা অস্বস্তিকর ঘরানার সিনেমা পছন্দকারীদের জন্য ‘দ্য ড্রামা’ আকর্ষণীয় হতে পারে।