1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ১৫ শতাংশ বাড়িভাড়ার নতুন হার কার্যকর স্বাধীনতার ৫৪ বছর: ফুটবলের আবেগের বাইরে বাংলাদেশ-লাতিন আমেরিকার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিবর্তন সারাদেশে সোয়া ৭ কোটির বেশি নাগরিক পেলেন স্মার্টকার্ড নকল ও প্রশ্নপত্র ফাঁসমুক্ত পরিবেশে এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন চলতি বছরের ফিরতি হজ ফ্লাইট সম্পন্ন, দেশে ফিরেছেন ৭৯ হাজার ১০০ হাজি সারাদেশে ২৪ ঘণ্টায় হামে আরও একজনের মৃত্যু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে মেট্রোরেল চলাচল ৩ ঘণ্টা বন্ধ দেশে ক্যাশলেস লেনদেন সম্প্রসারণে বাধ্যতামূলকভাবে চালু হলো ‘বাংলা কিউআর’ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিরাপত্তায় মোতায়েন হচ্ছে ৫ হাজার আনসার সদস্য অনলাইন জুয়া ও বেটিং রুখতে সংসদে নতুন আইন পাস, সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড

বাংলাদেশ থেকে গত এক দশকে ৬৮৩০ কোটি ডলার অর্থ পাচার

রিপোর্টার
  • আপডেট : সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬
  • ৫৬ বার দেখা হয়েছে

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

মার্কিন সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি (জিএফআই)-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০১৩ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৬৮.৩০ বিলিয়ন ডলার অর্থ পাচার হয়েছে। বর্তমান বিনিময় হারের (প্রতি ডলার ১২২.৭৫ টাকা) হিসাব অনুযায়ী, এই পরিমাণ বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৬.৮৩ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৮৩ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে, যা দেশের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ১৬ শতাংশের সমান।

জিএফআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অর্থ পাচারের প্রধান চ্যানেল হিসেবে আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে মিথ্যা ঘোষণা বা মূল্য কারসাজির ব্যবস্থাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা পণ্যের মূল্যের সত্যতা কম বা বেশি দেখিয়ে অবৈধভাবে বড় অঙ্কের অর্থ বিদেশে স্থানান্তর করে থাকে। এই ধরনের চ্যানেল ব্যবহার সহজ ও কার্যকর হওয়ায় পাচার তৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, উন্নয়নশীল এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অর্থ পাচারের ঝুঁকিতে থাকা শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে একটি। পাচার হওয়া অর্থের একটি বড় অংশ উন্নত অর্থনীতির দেশে চলে যায়। এটি দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণে প্রভাব ফেলে, কর আদায় কমিয়ে দেয় এবং জনসেবা ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের সক্ষমতা সীমিত করে। ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সুশাসনের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি হয়।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশ থেকে পাচার হওয়া মোট অর্থের প্রায় ৭৫ শতাংশই বাণিজ্য চ্যানেলের মাধ্যমে হয়। ২০১৫ সালের অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন সংশোধনের পরও চিহ্নিত ৯৫টি পাচারের ঘটনা বাণিজ্য চ্যানেলের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে, যার মোট পরিমাণ ৩ হাজার ২০১ কোটি টাকা। গবেষকরা জানিয়েছেন, বিশেষ করে বস্ত্র, ভোগ্যপণ্য ও জ্বালানি আমদানিতে এই অনিয়ম বেশি দেখা যায়। ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে শুধুমাত্র মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে প্রতিবছর গড়ে ৮.২৭ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা দেশের জিডিপির প্রায় ২ শতাংশের সমান। ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাণিজ্যের আড়ালে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার অর্থ পাচার হয়েছে, যা জিডিপির প্রায় ৩.৪ শতাংশ।

প্রতিবেদনগুলোতে বাণিজ্যভিত্তিক অর্থ পাচার রোধে বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও নজরদারি ব্যবস্থার কিছু দুর্বলতার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। যদিও সব ব্যাংক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তালিকা যাচাই করতে সক্ষম, তবু আমদানি-রপ্তানি মূল্যের সঠিক যাচাইয়ের তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করছে মাত্র অর্ধেক ব্যাংক।

অর্থ পাচার রোধের জন্য জিএফআইয়ের সুপারিশে বলা হয়েছে, শুল্ক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা, আন্তর্জাতিক তথ্য বিনিময় বৃদ্ধি, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য চ্যানেলে সঠিক নজরদারি ও লেনদেনের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেতে পারে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026