অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বাজারে একদিনে দুই দফায় সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে। শনিবার সকালে প্রথম দফায় ভরিতে ২ হাজার ১৫৭ টাকা এবং বিকেলে দ্বিতীয় দফায় আরও ৪ হাজার ৪৩৩ টাকা বাড়ানো হয়। ফলে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা, যা শনিবার বিকেল থেকে কার্যকর হয়েছে এবং রবিবারও একই দামে বিক্রি হচ্ছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা এবং স্থানীয় বাজারে চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সমন্বয় করা হয়েছে। শনিবার সকালে প্রথম ধাপে দাম বাড়ানোর পর ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৩৭ হাজার ১২ টাকা। তবে একই দিন বিকেলে পুনরায় মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে অতিরিক্ত ৪ হাজার ৪৩৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে নতুন দর ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকায় দাঁড়ায়।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৮৪৭ টাকা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দর বৃদ্ধি, ডলারের বিনিময় হার এবং স্থানীয় বাজারে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব দেশীয় বাজারে পড়ছে। এর ফলে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিকবার মূল্য সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগের নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ছে, যার প্রভাব সরাসরি দেশীয় বাজারে প্রতিফলিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, সোনার দামের পরিবর্তন হলেও রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। বাজুস নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম অপরিবর্তিত রেখে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের দামের এ ধরনের ধারাবাহিক বৃদ্ধি গয়নার বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যেতে পারে, ফলে খুচরা বিক্রিতে ধীরগতি দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরা মজুদ ব্যবস্থাপনা ও মূল্য নির্ধারণে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা এবং মুদ্রাবাজারের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতে সোনার দামে আরও পরিবর্তন আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।