অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তৈরি পোশাকশিল্প সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ সহজ করতে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত কিছু শাখা স্বল্পসংখ্যক জনবল দিয়ে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত খোলা থাকবে, যাতে শিল্প খাতে আর্থিক লেনদেন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরীসহ আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ এবং চট্টগ্রামের তৈরি পোশাকশিল্প-ঘন এলাকায় অবস্থিত ব্যাংকের নির্বাচিত শাখাগুলো এদিন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। ব্যাংকের অফিস সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত। তবে গ্রাহক লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে জোহরের নামাজের জন্য স্বল্প বিরতি রাখা হবে।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হচ্ছে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের ঈদপূর্ব বেতন ও অন্যান্য ভাতা সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করা। প্রতি বছর ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা প্রদানে চাপ বৃদ্ধি পায়। ফলে ব্যাংকিং কার্যক্রম সচল রাখা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করতে পারে এবং শ্রমিকদের মধ্যে আর্থিক অনিশ্চয়তা হ্রাস পায়।
নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যাংকের নির্দিষ্ট শাখা খোলা রাখা হয়েছে। প্রাইম ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখা (চট্টগ্রাম), নারায়ণগঞ্জ শাখা, গণকবাড়ী শাখা (সাভার) এবং টঙ্গী শাখা (গাজীপুর) এদিন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ আগ্রাবাদ করপোরেট শাখা (চট্টগ্রাম), ঢাকার হেড অফিস কমপ্লেক্স করপোরেট শাখা, লোকাল অফিস এবং নারায়ণগঞ্জ শাখা খোলা রেখেছে।
অন্যদিকে সিটি ব্যাংকের জয়পুরহাট, দিনাজপুর, গোবিন্দগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, সৈয়দপুর, রাজশাহী, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া এবং রংপুর শাখাগুলো খোলা রয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংকের মতিঝিল, টঙ্গী, গণকবাড়ী, জয়দেবপুর, সিডিএ অ্যাভিনিউ (চট্টগ্রাম), রোকেয়া সরণি, রংপুর, ধানমন্ডি-২৭, বড় বাজার (খুলনা), গুলশান নর্থ অ্যাভিনিউ, যশোর এবং সিদ্ধিরগঞ্জ শাখা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ শাখা খোলা রাখা হয়েছে। প্রিমিয়ার ব্যাংকের কাওরান বাজার ও মতিঝিল শাখা (ঢাকা) ছাড়াও বনানী, গুলশান এবং উত্তরা শাখা চালু রয়েছে। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের চন্দ্রা, গুলশান, জুবিলি রোড, নারায়ণগঞ্জ বিসিক, প্রিন্সিপাল শাখা, উত্তরা মডেল টাউন, কুষ্টিয়া, খুলনা, যশোর এবং লোহাগড়া শাখাগুলোও সীমিত আকারে সেবা দিচ্ছে।
এছাড়া এনসিসি ব্যাংকের ও আর নিজাম রোড (চট্টগ্রাম), মতিঝিল, বারিধারা, সাভার, জয়দেবপুর এবং বাইপাইল শাখা খোলা রয়েছে। এসব শাখায় সীমিত জনবল নিয়োগের মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগকে তৈরি পোশাক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ এই খাত থেকে আসে, যেখানে লক্ষাধিক শ্রমিক কর্মরত। ঈদের আগে তাদের বেতন-ভাতা সময়মতো পরিশোধ না হলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে। ফলে সীমিত ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখার মাধ্যমে শিল্প খাতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং শ্রমিকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ শ্রমিক ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে আস্থা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।