অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর বিভাগের সহকারী কর কমিশনার মোসা. তানজিনা সাথী এবং তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তিনটি মামলা দায়ের করেছে। তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের মধ্যে এই পরিবারের নামের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট পরিমাণ প্রায় ১৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকার বেশি, যার বৈধ উৎস প্রমাণ করা যায়নি।
মামলার সূত্রে জানা যায়, তানজিনা সাথী কর অঞ্চল-৭ এর কর সার্কেল-১৩৭ ও ১৪২ এবং কর অঞ্চল-৯ এর কর সার্কেল-১৮১-এ দায়িত্ব পালনকালে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। দুদকের অনুসন্ধানে তার নামে ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকার স্থাবর এবং ২ কোটি ৩৩ লাখ ৪৪ হাজার ৩৯৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৩-২৪ পর্যন্ত পরিবারের ও অন্যান্য ব্যয়ের হিসাব নিলে মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ কোটি ৭৯ লাখ ৭৭ হাজার ৩৯২ টাকা। বৈধ দালিলিক প্রমাণ দেখাতে সমর্থ হয়েছেন মাত্র ৭৯ লাখ ১৮ হাজার ২৯৮ টাকা, যার ফলে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে ৫ কোটি ৬৫ হাজার ৯৪ টাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
তার বাবা মো. মোশারফ হোসেন মল্লিকের নামে দুদকের অনুসন্ধানে ৭ কোটি ৮৮ লাখ ২৮ হাজার ৬৫৫ টাকার সম্পদ শনাক্ত হয়েছে, যার বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া যায়নি। এই সম্পদের মধ্যে ৩ লাখ ২৯ হাজার টাকার স্থাবর এবং ৪ কোটি ৭৫ লাখ ৪ হাজার ৪২ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। ২০০২-০৩ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষ পর্যন্ত আয়কর নথিতে পারিবারিক ও অন্যান্য খাতে দেখানো ব্যয় ৪ কোটি ১৭ লাখ ১৫ হাজার ৫৪ টাকা। বৈধ উৎস দেখাতে পেরেছেন মাত্র ১ কোটি ৭ লাখ ১৯ হাজার ৪৪১ টাকা। তদন্তে জানা গেছে, তার কন্যা তানজিনা সাথী অবৈধ টাকা বৈধ করতে বাবার নাম ব্যবহার করেছেন।
তানজিনা সাথীর মা, গৃহিণী মোসা. রাণী বিলকিসের নামে দুদক ১ কোটি ৫৬ লাখ ৫৮ হাজার ৫৬৩ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পেয়েছে। এটি তার মেয়ের অর্জিত অবৈধ অর্থ বৈধ করার উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা হয়েছিল। মা-মেয়ের এই সম্পদ বৈধ করার প্রক্রিয়ায় দুদক তানজিনা সাথীকে পাশাপাশি মামলার আসামি করেছে।
মামলাগুলোতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, সহকারী কর কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তানজিনা সাথী বিপুল পরিমাণ উৎকোচ গ্রহণ করে নিজের এবং পরিবারের নামে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। তিনটি মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সম্পদের প্রকৃত আয় ও কর ফাইলের তথ্যের মধ্যে গুরুতর অসঙ্গতি রয়েছে। অবৈধ অর্থ বৈধ করতে আয়কর নথিতে মিথ্যা তথ্য দেখানো হয়েছিল।
দুদক এই মামলাগুলো দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধি ১০৯ ধারার ভিত্তিতে। মামলাগুলো দায়ের করেছেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ।
এই মামলার মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় সম্পদের উৎস সম্পর্কে স্বচ্ছতা না থাকলে তা সরকারের কর আদায় এবং সরকারি সম্পদের ব্যবস্থাপনার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। মামলাগুলো অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় থাকায় তানজিনা সাথী ও তার পরিবারের সম্পদের বৈধতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলমান।