ঝিনাইদহ — জেলা প্রতিনিধি
আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রসঙ্গে কঠোর মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি দাবি করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনীতির চ্যাপ্টার শেষ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে তিনি এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানেরও তীব্র সমালোচনা করেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা পর্যায়ের সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে রাশেদ খান বলেন, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশের পরিস্থিতি ত্যাগ করে শেখ হাসিনা বিদেশে চলে যান। তিনি যদি দেশে অবস্থান করতেন, তবে পরিস্থিতির গতিপথ ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু নেতাকর্মীদের ফেলে চলে যাওয়ায় তাদের মনোবল সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতির ভবিষ্যৎ চিরতরে ধূলিসাৎ হয়েছে।
এনসিপির রাজনৈতিক ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটি নতুন বন্দোবস্তের কথা বললেও কার্যত ভণ্ডামির আশ্রয় নিচ্ছে। এনসিপি বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর পরামর্শে পরিচালিত হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন এবং তাদের গঠনমূলক রাজনীতি করার আহ্বান জানান। এছাড়া এনসিপির কিছু নেতাকর্মী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে কটূক্তি করছেন বলে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিষয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার কারণেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ মানুষ ও সমর্থকরা প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও অবস্থানের কথা উল্লেখ করে রাশেদ খান জানান, বর্তমান সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। দলের নেতাকর্মীদেরও প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশকে সবাই মিলে পুনর্গঠন করাই এই সরকারের মূল লক্ষ্য।
এর আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি ঝিনাইদহ জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক পরিবেশ রক্ষায় দিকনির্দেশনা দেন। বিশেষ করে এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশ প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়। মাদক নির্মূলে প্রশাসন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সামাজিক প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সভায় জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।