বাংলাদেশ ডেস্ক
সিলেটের গোলাপগঞ্জে গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ফেরার পথে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে উপজেলার পাঁচমাইল এলাকায় এ হামলার ঘটনায় এনসিপির অঙ্গসংগঠন যুবশক্তির এক নেতাসহ একাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে বহরে থাকা অন্তত চারটি গাড়ি ব্যাপকভাবে ভাঙচুর করা হয়।
সংগঠনটির স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, গোলাপগঞ্জে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় কর্মসূচি শেষ করে কানাইঘাটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছিল এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের বহরটি। দুপুর ১২টা নাগাদ বহরটি পাঁচমাইল বাজারে পৌঁছালে ৪০ থেকে ৫০ জনের এক দল সশস্ত্র ব্যক্তি রাস্তার গতি রোধ করে। হামলাকারীরা রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একযোগে বহরে থাকা নেতৃবৃন্দের যানবাহনে আক্রমণ চালায়।
হামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম, আতিফ মুজাহিদ, ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং জেলা সদস্যসচিব কামরুল আরিফের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গাড়ি থেকে নামার চেষ্টা করলে এনসিপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে হামলাকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে যুবশক্তি সিলেটের সাবেক দপ্তর সম্পাদক তারেক জামিল চোখে মারাত্মক আঘাত পান। তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে সিলেট জেলা এনসিপির সদস্যসচিব কামরুল আরিফ জানান, সুপরিকল্পিতভাবে তাদের পথরোধ করে অস্ত্রধারীরা তাণ্ডব চালিয়েছে। পর পরপর দুই দফায় এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম। প্রথম দফার আক্রমণের পর নিরাপত্তার চরম ঝুঁকি তৈরি হলে কানাইঘাটের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করতে বাধ্য হন নেতৃবৃন্দ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না থাকায় তারা সিলেটের সার্কিট হাউসে ফিরে এসে আশ্রয় নেন।
হঠাৎ এই হামলায় পুরো গোলাপগঞ্জ ও কানাইঘাট এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। জুলাই আন্দোলনের শহীদ স্মরণে আয়োজিত কর্মসূচিতে এ ধরনের হামলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।