1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০২:২৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
মিউচুয়াল ফান্ডের চাঙ্গাভাব: ঘুরে দাঁড়িয়েছে শেয়ারবাজার রোগ প্রতিরোধে জোর দেওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর, শিগগিরই ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির গাড়িবহরে হামলা: ছাত্রদল সভাপতিসহ ১১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা নেত্রকোণায় ৭৪০ বোতল ফেনসিডিলসহ বাবা-মেয়ে গ্রেফতার পাকিস্তানের লাহোরে আবাসিক ভবন ধসে ১১ জনের মৃত্যু, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত জীবনস্বত্ব রেখে সন্তানকে সম্পত্তি নিবন্ধনের বিধান রেখে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর আইন’ সংশোধনের উদ্যোগ রাজনীতিতে পরিবেশ নষ্ট করলে কড়া জবাবের হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৪ শিশুর মৃত্যু, শনাক্ত ১৩৫ ভয়ভীতির অভিযোগে মুখ খুললেন জামায়াত আমির চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার আগে জানতেন না নিজের জন্মদিনের তারিখ: অভিনেতা ধানুশ

শাপলা চত্বরের ঘটনা: লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে

আইন আদালত ডেস্ক

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারক প্যানেল এ নির্দেশ প্রদান করেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের মে মাসে শাপলা চত্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে পূর্বে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। উক্ত পরোয়ানা তামিল নিশ্চিত করতে ২৯ জুলাই বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরবর্তীকালে ৩০ জুলাই দুপুরে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। আদালত শুনানি শেষে তাকে উক্ত মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালতের বিচারিক কার্যক্রমে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তিনি আদালতকে অবহিত করেন যে, আসামিকে ট্রাইব্যুনালে সুনির্দিষ্ট মামলায় হাজির করা হয়েছে এবং প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে তাকে রিমান্ডে নেওয়া বা অন্য কোনো অন্তর্বর্তী আবেদন উপস্থাপন করা হয়নি। শুনানি চলাকালে ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, জহিরুল আমিন ও তারেক আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী আবদুল্লাহ আল হারুন ভূঁইয়া এবং লতিফ সিদ্দিকীর ভাই কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকীসহ অন্যান্য আইনজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। আসামিপক্ষ থেকেও বিচারিক প্রক্রিয়া চলাকালে জামিন বা অন্য কোনো আবেদন ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেন। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৩১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং ১০ জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালত এ সংক্রান্ত মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৬ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা এই সুনির্দিষ্ট মামলায় এখন পর্যন্ত মোট আটজন হেভিওয়েট আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তারা হলেন— সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির, পুলিশের সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, এবং সাংবাদিক ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল বাবু। এছাড়া জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক অন্যান্য মামলায় কারাগারে আটক রয়েছেন এবং তাদের এই মামলায় শোন অ্যারেস্টের আইনি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মামলার অন্যান্য মূল অভিযুক্তরা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

প্রসিকিউশন কর্তৃক ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা অভিযোগপত্রে লতিফ সিদ্দিকীসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে দুটি সুনির্দিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিল শাপলা চত্বরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ও সমাবেশ কেন্দ্রিক সংঘাতের মাধ্যমে আবু বকর সিদ্দিকসহ ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে পরবর্তী দিন অর্থাৎ ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছাদেক মিয়াসহ ২০ জন নিহতের ঘটনা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘটিত সহিংসতা ও প্রাণহানির বিবরণ যুক্ত করা হয়েছে। একই সাথে রাশেদুল ইসলাম ও আবু ইউসুফসহ অসংখ্য বেসামরিক নাগরিকের ওপর প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার, নির্যাতন এবং শারীরিক পঙ্গুত্ব বরণের বিষয়টি নথিজুক্ত করা হয়। প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে এসব ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উদ্দেশ্যে নিপীড়ন এবং পদ্ধতিগত গণহত্যার শামিল হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে পাঠানোর মধ্য দিয়ে এই বহুল আলোচিত বিচার প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ শুরু হলো।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026