বিশেষ প্রতিবেদক
বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি ইতিবাচক পরিবর্তনের পেছনে জনগণের আত্মত্যাগ রয়েছে উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে রাষ্ট্র ও সমাজে সত্যিকারের পরিবর্তন নিশ্চিত করতে হবে। ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রতিটি ঘটনার মূল ভিত্তিই ছিল সাধারণ মানুষের বলিদান। স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও পরিবর্তনের জন্য তরুণদের জীবন দেওয়াকে জাতীয় স্তরে গভীর আত্মসমালোচনার বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর তথ্য ভবন মিলনায়তনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা জুলাই শহীদ দিবস বিষয়ক স্মারক প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন এবং স্মৃতি আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, পরিবর্তন একটি চলমান ও অনিবার্য প্রক্রিয়া হলেও দেশে প্রতিটি ইতিবাচক অর্জনের জন্য রক্ত দিতে হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে যে, দেশের তরুণ সমাজই রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের প্রধান অনুঘটক। তাদের এই অভূতপূর্ব আত্মত্যাগের ওপর ভিত্তি করে একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। কেবল ক্ষমতার রদবদল নয়, বরং প্রশাসনিক সংস্কৃতি, রাষ্ট্র পরিচালনানীতি এবং জনগণের চিন্তা-চেতনায় দীর্ঘমেয়াদি ও মৌলিক রূপান্তর ঘটার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
প্রশাসনিক কাঠামোর বর্তমান চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পরও বিভিন্ন স্তরে পুরোনো মানসিকতা এবং পরিবর্তনবিমুখতার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সার্বিক জনআকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে সরকারি প্রশাসনকে আরও জনমুখী, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক করার তাগিদ দেন তিনি। প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করে জাতীয় ঐক্য, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন সম্ভব বলে তিনি জানান।
সভাপতির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সতর্ক করে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক অর্জন ও চেতনাকে কেন্দ্র করে কোনো গোষ্ঠী যেন ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে না পারে। সমাজে অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্য চরম আকার ধারণ করলেই জনগণ স্বাধীনতার মূল চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তিনি জুলাইয়ের মানবিক ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ধারণ করে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সর্বস্তরের নাগরিককে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
আলোচনাসভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানগণ, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রকাশনা ও চিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।