রাজনীতি ডেস্ক
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে ২০২৫ পঞ্জিকাবর্ষের বার্ষিক আয় ও ব্যয়ের চূড়ান্ত নিরীক্ষিত হিসাব জমা দিয়েছে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জমা দেওয়া বিবরণী অনুযায়ী, আলোচিত বছরটিতে দলটির মোট আয় হয়েছে ২৩ কোটি ৬৮ লাখ ২৪ হাজার ১৩৯ টাকা। বিপরীতে মোট ব্যয় প্রদর্শিত হয়েছে ২৩ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৩৪ টাকা। ফলে আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হয়েছে ২৩ লাখ ৬২ হাজার ৭৯৫ টাকা। একই সঙ্গে আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের তুলনায় দলটির বার্ষিক সার্বিক আয় কমে যাওয়ার চিত্র ফুটে উঠেছে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, দ্য রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার (আরপিও) এবং রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বিধিমালা অনুযায়ী দেশের প্রতিটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের জন্য প্রতি পঞ্জিকাবর্ষ শেষে পরবর্তী বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পূর্ববর্তী বছরের হিসাব জমা দেওয়া আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নিয়ম অনুসরণের অংশ হিসেবে নির্ধারিত সময়সীমার আগেই জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিবৃন্দ ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে এই হিসাব হস্তান্তর করেন।
ইসিতে উপস্থাপিত আর্থিক বিবরণী বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের সূচনা লগ্নে জামায়াতে ইসলামীর প্রারম্ভিক স্থিতির পরিমাণ ছিল ১৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। বছরজুড়ে পরিচালিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক পরিচালনা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় মেটানোর পর বর্তমানে দলটির হাতে নগদ স্থিতি রয়েছে ৭ কোটি ৫১ লাখ ১৩ হাজার ৬৫ টাকা। এছাড়া বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছে ৭ কোটি ৯৮ লাখ ৩১ হাজার ৩৬৩ টাকা। অর্থাৎ নগদ ও ব্যাংক হিসাব মিলিয়ে বর্তমানে দলটির মোট গচ্ছিত তহবিলের পরিমাণ ১৫ কোটি ৪৯ লাখ ৪৪ হাজার ৪২৮ টাকা।
দলটির পূর্ববর্তী বছরের আর্থিক হিসাবের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ২০২৪ পঞ্জিকাবর্ষে জামায়াতে ইসলামীর বাৎসরিক আয় হয়েছিল ২৮ কোটি ৯৭ লাখ ২৯৯ টাকা। ওই বছর দলটির ব্যয় হয়েছিল ২৩ কোটি ৭৩ লাখ ৩৮ হাজার ১৭৭ টাকা। ফলে ২০২৪ সালে অর্জিত উদ্বৃত্ত অর্থের পরিমাণ ইতিবাচক থাকলেও ২০২৫ পঞ্জিকাবর্ষে দলটির আয় হ্রাস পাওয়ায় এবং পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক বাৎসরিক হিসাবে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
এদিকে, প্রধান নিবন্ধিত দলগুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণের অংশ হিসেবে সম্প্রতি দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের আর্থিক বিবরণী জমা দিয়েছে। গত ১৯ জুলাই অপর রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ইসিতে তাদের ২০২৫ সালের বার্ষিক হিসাব দাখিল করে। বিএনপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দলটির মোট আয় হয় ২২ কোটি ১৯ লাখ ৫৫ হাজার ১৮২ টাকা এবং মোট ব্যয় হয় ১৫ কোটি ২৬ লাখ ১০ হাজার ৮৫৭ টাকা। ফলে বছর শেষে বিএনপির ব্যাংকিং হিসাব ও তহবিলে উদ্বৃত্ত ছিল প্রায় ৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। বর্তমানে বিএনপির স্থায়ী আমানত ও নগদ অর্থ মিলিয়ে মোট গচ্ছিত তহবিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮ কোটি ৭ লাখ টাকায়।
বাংলাদেশে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিবছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের নিবন্ধিত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্ম দ্বারা নিরীক্ষিত আয়-ব্যয়ের হিসাব কমিশনে জমা দিতে বাধ্য থাকে। পর পর তিন বছর কোনো দল এই নিয়ম পালনে ব্যর্থ হলে বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হিসাব দাখিল না করলে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিলের এখতিয়ার রাখে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশনের অর্থ ও হিসাব শাখার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দলগুলোর আয় ও ব্যয়ের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশের এই চর্চা রাজনৈতিক অর্থায়নে স্বচ্ছতা আনয়ন, অনাকাঙ্ক্ষিত লেনদেন রোধ এবং অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি সুসংহত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জমা দেওয়া এই আয়-ব্যয়ের হিসাব বিবরণী বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট শাখায় নিয়মতান্ত্রিক পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে।