অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
চলতি ২০২৬ হিসাববছরের প্রথম অর্ধে (জানুয়ারি-জুন) বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেড ২০ কোটি ৭০ লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফায় ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিবন্ধিত হয়েছে। প্রধান অর্থায়ন কার্যক্রমের ইতিবাচক ধারা এবং সরকারি সিকিউরিটিজসহ অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই আর্থিক সাফল্য এসেছে বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩০ জুন পর্যন্ত আইপিডিসি ফাইন্যান্সের মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৪১৭ কোটি টাকায়। একই সময়ে আমানত সংগ্রহের ক্ষেত্রেও ৭ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যার ফলে আমানতের মোট পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৭১৬ কোটি টাকা। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে প্রতিষ্ঠানটির অর্জিত মোট পরিচালন আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ এসেছে মূল অর্থায়ন বা ঋণ বিতরণ কার্যক্রম থেকে। এর পাশাপাশি সরকারি সিকিউরিটিজ এবং বিভিন্ন লাভজনক খাতে কৌশলগত বিনিয়োগ বাড়ানোর ফলে প্রতিষ্ঠানটির মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকায়।
আর্থিক উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রথমার্ধে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের মোট সুদ বাবদ আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৮৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। পরিচালন ব্যয় ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক সমন্বয়ের পর প্রতিষ্ঠানটির নিট সুদ আয় ২২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৬ কোটি টাকায়।
নিট সুদ আয় ও মূল ধারার ব্যবসায় ধারাবাহিক অগ্রগতির ইতিবাচক প্রভাবে পর্যালোচনাধীন ছয় মাসে কোম্পানির মোট পরিচালন আয় ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ২০৬ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। কেবল বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) পরিচালন আয় দাঁড়িয়েছে ১১২ কোটি ২০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি।
ব্যবসার সার্বিক প্রসারের ফলে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের অন্যান্য আর্থিক সূচকেও উন্নতি পরিলক্ষিত হয়েছে। আলোচ্য সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) পূর্ববর্তী হিসাববছরের ৮ দশমিক ১২ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১২ দশমিক শূন্য ২ টাকায় উন্নীত হয়েছে। একই সঙ্গে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) গত বছরের একই সময়ের ৩৫ পয়সা থেকে বেড়ে ৪৮ পয়সায় দাঁড়িয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে, গ্রাহকদের ধারাবাহিক আস্থা এবং কার্যকর ব্যবসায়িক কৌশলের ওপর ভিত্তি করে এই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সামগ্রিক আর্থিক খাতে বিদ্যমান নানামুখী চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও আইপিডিসির সুদ আয় বৃদ্ধি, পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি সিকিউরিটিজে নিরাপদ বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানটির মূলধন কাঠামো এবং পরিচালন সক্ষমতাকে অধিকতর সুসংহত করেছে। ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সুশাসন বজায় রাখা ও খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণের ধারা অব্যাহত রাখা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।