1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০২:২৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
মিউচুয়াল ফান্ডের চাঙ্গাভাব: ঘুরে দাঁড়িয়েছে শেয়ারবাজার রোগ প্রতিরোধে জোর দেওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর, শিগগিরই ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির গাড়িবহরে হামলা: ছাত্রদল সভাপতিসহ ১১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা নেত্রকোণায় ৭৪০ বোতল ফেনসিডিলসহ বাবা-মেয়ে গ্রেফতার পাকিস্তানের লাহোরে আবাসিক ভবন ধসে ১১ জনের মৃত্যু, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত জীবনস্বত্ব রেখে সন্তানকে সম্পত্তি নিবন্ধনের বিধান রেখে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর আইন’ সংশোধনের উদ্যোগ রাজনীতিতে পরিবেশ নষ্ট করলে কড়া জবাবের হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৪ শিশুর মৃত্যু, শনাক্ত ১৩৫ ভয়ভীতির অভিযোগে মুখ খুললেন জামায়াত আমির চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার আগে জানতেন না নিজের জন্মদিনের তারিখ: অভিনেতা ধানুশ

ডাবলিনে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় অস্কারজয়ী আইরিশ সংগীতশিল্পী গ্লেন হ্যানসার্ডের মৃত্যু

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬
  • ২০ বার দেখা হয়েছে

বিনোদন ডেস্ক

ডাবলিনে এক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা গেছেন অস্কারজয়ী আইরিশ সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও অভিনেতা গ্লেন হ্যানসার্ড। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। গত বুধবার আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনের পশ্চিমাঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি প্রাণ হারান। আইরিশ পুলিশ ও তার পরিচিত ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ‘এটিসি ম্যানেজমেন্ট’ সংবাদমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ‘দ্য ফ্রেমস’ ব্যান্ডের এই প্রধান কণ্ঠশিল্পী বিখ্যাত স্বল্পবাজেটের চলচ্চিত্র ‘ওয়ান্স’-এর কালজয়ী গান ‘ফলিং স্লোলি’-র জন্য বিশ্বজুড়ে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

আইরিশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র অনুযায়ী, ডাবলিনের পশ্চিমাঞ্চলীয় এক সড়কে একটি একক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার মাধ্যমে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে খবর পেয়ে জরুরি সেবাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত শিল্পীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন। তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদানের কিছুক্ষণের মধ্যেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। উক্ত দুর্ঘটনায় অন্য কোনো যানবাহনের সম্পৃক্ততা ছিল না বলে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্লেন হ্যানসার্ডের জীবনসংগ্রাম ও সংগীতের পথচলা আয়ারল্যান্ডের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায়। মাত্র ১৩ বছর বয়সে সাধারণ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছেড়ে দিয়ে তিনি ডাবলিনের রাস্তায় গান গেয়ে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেন। ডাবলিনের প্রাণকেন্দ্রে পথসংগীত পরিবেশন করেই তিনি ধীরে ধীরে নিজ শহরের অধিবাসীদের মন জয় করেন। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে তিনি গঠন করেন বিকল্প রক ব্যান্ড ‘দ্য ফ্রেমস’। আয়ারল্যান্ডের স্থানীয় সংগীতে এটি অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় ব্যান্ড হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ব্যান্ডটির ধারাবাহিক সাফল্য তাকে আইরিশ সংগীত জগতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করে।

গ্লেন হ্যানসার্ডের আন্তর্জাতিক খ্যাতির মূল ভিত্তি গড়ে ওঠে ২০০৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত স্বাধীনধারার আইরিশ চলচ্চিত্র ‘ওয়ান্স’-এর মাধ্যমে। এতে একজন পথসংগীতশিল্পীর চরিত্রে তিনি নিজেই অভিনয় করেন এবং সহ-শিল্পী মার্কেটা ইরগলোভার সঙ্গে গান পরিবেশন করেন। পরবর্তীতে এ দুজনে মিলে গঠন করেন ‘দ্য সোয়েল সিজন’ নামের একটি যৌথ সংগীত জুটি। এই চলচ্চিত্রের বিখ্যাত গান ‘ফলিং স্লোলি’ বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয় এবং ২০০৮ সালে ‘সেরা মৌলিক গান’ বিভাগে অস্কার লাভ করে। এই চলচ্চিত্রের গানগুলো পরবর্তীতে বিখ্যাত ব্রডওয়ে মঞ্চনাটকে রূপান্তরিত হলে ২০১২ সালে তা আটটি মর্যাদাপূর্ণ ‘টনি পুরস্কার’ লাভ করে। এর আগে ১৯৯১ সালে জনপ্রিয় আইরিশ চলচ্চিত্র ‘দ্য কমিটমেন্টস’-এ অভিনয় করে তিনি অভিনয়ের জগতেও নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন।

সংগীত জগতে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি কেবল ব্যান্ডের মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; সফলভাবে একাধিক একক অ্যালবামও প্রকাশ করেছেন। ২০১৬ সালে তার স্বতন্ত্র কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি গ্র্যামি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন। তবে সংগীতে সাফল্যের পাশাপাশি গৃহহীন ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সেবায় গ্লেন হ্যানসার্ডের অবদান ছিল অপরিসীম। ২০১০ সালে আয়ারল্যান্ডে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের সময় তিনি বড়দিনের পূর্বসন্ধ্যায় ডাবলিনের প্রধান বাণিজ্যিক সড়কে দাতব্য পথসংগীতের আয়োজন শুরু করেন। প্রতি বছর আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠান থেকে ‘ডাবলিন সাইমন কমিউনিটি’ নামের একটি অলাভজনক সামাজিক সংস্থার জন্য ২০ লাখ ইউরোর বেশি অর্থ সংগৃহীত হয়। সংস্থাটি তাকে সামাজিক সুরক্ষার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণ করেছে। বিশ্বখ্যাত ব্যান্ড ‘ইউ টু’-এর তারকা শিল্পী বোনো, সিনেড ও’কনর এবং শেন ম্যাকগোয়ানের মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পীরা বিভিন্ন সময় হ্যানসার্ডের এই মানবিক উদ্যোগে প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেন।

তার আকস্মিক প্রয়াণে বৈশ্বিক সংগীত অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন এক শোকবার্তায় হ্যানসার্ডকে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক অনন্য পুরোধা ব্যক্তিত্ব হিসেবে অভিহিত করেছেন। মার্কিন সংগীত কিংবদন্তি ব্রুস স্প্রিংস্টিন তাকে একজন বিশ্বস্ত বন্ধু ও অসাধারণ শিল্পী হিসেবে উল্লেখ করে গভীর শোক প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে রক ব্যান্ড ‘ইউ টু’-এর প্রধান কণ্ঠশিল্পী বোনো তাকে ‘রাস্তাঘাটের নিজস্ব কণ্ঠস্বর’ আখ্যা দিয়ে সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ানোর অনন্য মানবিক গুণের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজের কাজ ও মানবিক গুণের মধ্য দিয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকা এই শিল্পী মৃত্যুকালে স্ত্রী মাইরে সারিটসা এবং ৩ বছর বয়সী এক পুত্রসন্তান ক্রিস্টিকে রেখে গেছেন।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026