নিজস্ব প্রতিবেদক
হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। ঘোষিত আদেশ অনুযায়ী পৌর এলাকায় নির্দিষ্ট স্থানে চার বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েত, যেকোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও শোভাযাত্রা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বুধবার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এক আদেশের মাধ্যমে এই বিধিনিষেধ আরোপ করেন। সম্প্রতি সংঘটিত সহিংস ঘটনা এবং শহরের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আদেশের পর থেকে শহরের মূল পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে জোরদার করা হয়েছে টহল।
ঘটনার পটভূমিতে জানা গেছে, পূর্বনির্ধারিত সফর ও কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জে সফররত এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় দলটির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা আহত হন। এই ঘটনার প্রতিবাদে এনসিপি জেলা শহরে প্রতিবাদের কর্মসূচি ঘোষণা করে। অন্যদিকে, একই সময়ে বিএনপিও পাল্টা সভা-সমাবেশের ডাক দিলে দুই দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
হামলার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে এই কড়াকড়ি আরোপ করে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে গৃহীত এই প্রশাসনিক আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শহরের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১৪৪ ধারা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। আদেশের লঙ্ঘন হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো শহরের স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছে। বর্তমানে শহরের পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও নিয়ন্ত্রণাধীন রয়েছে।