রাজনীতি ডেস্ক
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদলের সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বার্তায় বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন। সেখানে তিনি এনসিপি নেতাদের সাম্প্রতিক ভূমিকা ও বক্তব্য নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনা তুলে ধরেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের থানার মোড় এলাকায় এনসিপি আয়োজিত সমাবেশকে কেন্দ্র করে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রত্যক্ষ সূত্রের বরাতে জানা যায়, সমাবেশ শুরু হলে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী ও ছাত্রদলের সদস্যদের সঙ্গে এনসিপি কর্মীদের কথা-কাটাকাটি হয়, যা একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে রূপ নেয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং সংগঠক সারজিস আলম সহ কয়েকজন নেতাকর্মী নিকটস্থ সোনালী ব্যাংক ভবনে আশ্রয় নিলে সেখানে তারা কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। ঘটনায় এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও স্থানীয় সদস্য সচিব মাহবুবুর রহমান মুবিনসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া তাদের ব্যবহৃত যান বাহনেও ভাঙচুর চালানো হয়।

ঘটনার পর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন, পদযাত্রা কর্মসূচির নামে এনসিপি নেতারা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশে বিষোদ্গার করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক মাঠে দায়িত্বশীল আচরণের পরিবর্তে এনসিপি নেতারা ইচ্ছাকৃতভাবে উসকানিমূলক পরিবেশ সৃষ্টি করছেন।
নিজের প্রতিক্রিয়ায় রাশেদ খাঁন আরও বলেন, স্থানীয় নেতাদের প্রতি আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহারের পর কোনো রাজনৈতিক দল যদি কেবল বাক্সংযমের কথা বলে, তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে সহনশীলতার অভাব তৈরি হলে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে উসকানি এড়িয়ে দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বক্তব্য প্রদানের আহ্বান জানান তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন রাজনৈতিক দল ও প্ল্যাটফর্মগুলোর সমন্বয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে মতপার্থক্য বাড়ছে। বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির টানা মাঠপর্যায়ের কর্মসূচি ও স্থানীয় রাজনৈতিক কাঠামোর পারস্পরিক বিরোধ রাজনীতির মাঠে নতুন অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি এবং সকল পক্ষকে রাজনৈতিক পরমতসহিষ্ণুতা বজায় রাখার জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।