আন্তর্জাতিক ডেস্ক
হরমুজ প্রণালির ভৌগোলিক নিয়ন্ত্রণ ভাগাভাগি নিয়ে ওমানের উত্থাপিত একটি দ্বিপক্ষীয় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের নিরাপত্তা ও চলাচলের সুবিধার্থে অঞ্চলটিকে ওমান ও ইরানের মধ্যে সমান দুই ভাগে বিভক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে তেহরান এই প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে এবং এ ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির স্ট্র্যাটেজিক বা কৌশলগত অবস্থান আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওমানের প্রস্তাব ছিল, প্রণালিটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করে একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ মাস্কাট এবং অপর অংশের নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতে রাখা হবে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এ ধরনের বিভাজন তাদের জাতীয় নিরাপত্তার অনুকূল নয়।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বিষিয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রণালিতে প্রবেশের প্রধান পথটির ওপর ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সমুদ্রপথের সার্বিক সুরক্ষায় ইরানের নিজস্ব নিরাপত্তা অগ্রাধিকার রয়েছে, যা ওমানের প্রস্তাবে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি। প্রস্তাবটি ইরানের নিরাপত্তার স্বার্থ সুরক্ষিত করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করে তেহরান।
তবে আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ না করে বিকল্প একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ বের হওয়ার নির্ধারিত রুটটির একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ ওমান গ্রহণ করতে পারে। তবে প্রণালিতে প্রবেশের রুটটি পুরোপুরি ইরানের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ওমান ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা যদি এই শর্ত মেনে নেয়, তবে ইরান পরবর্তী ধাপের আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত রয়েছে।
একই সঙ্গে তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রণালির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত এই অচলাবস্থা নিরসন না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আর কোনো আনুষ্ঠানিক বা পরোক্ষ আলোচনায় তারা অংশ নেবে না।
বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনকারী এই পানিপথ দিয়ে বিশ্ববাজারের মোট ব্যবহৃত তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এই প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ও চলাচলের নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। এর আগে গত মাসে সংঘাত এড়াতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। মধ্যস্থতাকারী পক্ষগুলো চুক্তিটি পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা করলেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান অনমনীয় অবস্থানের কারণে সেই প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এই পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।