বিশেষ প্রতিবেদক
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশ ও নেপালের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদকে সুপারিশ করেছে সংস্থাটির অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ইকোসকের বৈঠকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এর আগে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) উভয় দেশের আবেদন গভীরভাবে পর্যালোচনা করে। পর্যালোচনা শেষে সিডিপি মত দেয় যে, করোনা মহামারীর আর্থসামাজিক প্রভাব এবং বিশ্ব অর্থনীতির সামগ্রিক অনিশ্চয়তা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ও নেপালের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা সমীচীন। সিডিপির সেই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই ইকোসক সাধারণ পরিষদকে সুপারিশ পাঠায়। এর ফলে নির্দিষ্ট মেয়াদের আগে এ বিষয়ে সাধারণ পরিষদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়ার পথ উন্মুক্ত হলো।
বৈঠকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বাংলাদেশ ও নেপালের পক্ষে যৌথভাবে অতিরিক্ত প্রস্তুতিকালের পটভূমি, প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, এলডিসি থেকে একটি মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত সময় অপরিহার্য। হুট করে তালিকা থেকে বের হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুবিধা, অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা এবং বৈদেশিক সহায়তার ক্ষেত্রে যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে, তা মোকাবিলায় বাড়তি প্রস্তুতি প্রয়োজন।
সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এলডিসি থেকে বাংলাদেশের টেকসই উত্তরণের প্রতি সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, সাধারণ পরিষদ প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ, অর্থনৈতিক সংস্কার ও কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন জোরদার করবে। এতে করে এলডিসি-উত্তর অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় হবে।
নিয়ম অনুযায়ী জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি বিষয়ক কমিটির সুপারিশের পর ইকোসকের সম্মতি এবং চূড়ান্তভাবে সাধারণ পরিষদের অনুমোদনের মাধ্যমে এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। সাধারণ পরিষদ ইকোসকের এই সুপারিশ অনুমোদন করলে বাংলাদেশ ও নেপাল বাণিজ্য সুবিধা ধরে রাখা এবং অভ্যন্তরীণ সংস্কার সম্পন্ন করার জন্য অতিরিক্ত তিন বছর সময় পাবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, এ সময় বর্ধিতকরণ দেশ দুটির অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব কমানো এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে।