বাংলাদেশ ডেস্ক
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও মাতৃভাষা সংরক্ষণে সরকার বিভিন্ন টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোণা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। নতুন প্রজন্ম যেন নিজ মাতৃভাষা ভুলে না যায়, সে লক্ষ্যে হাজং ভাষার বই প্রকাশ এবং মন্দিরভিত্তিক ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। পরিচয়ের ভিন্নতা কিংবা ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশের কোনো নাগরিক যেন পিছিয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাস্তবায়নাধীন ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা’ কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার এবং আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে এই সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. শামসুজ্জামান আসিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সমঅধিকার ও সামাজিক সচেতনতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সুরক্ষায় কেবল সরকারি সহায়তাই যথেষ্ট নয়, বরং সমাজে সমঅধিকার ও সচেতনতা বৃদ্ধি আবশ্যক। গারো ও হাজংসহ সকল জাতিগোষ্ঠীকে পিছিয়ে পড়া অংশ হিসেবে না দেখে দেশের সমান অধিকারপ্রাপ্ত নাগরিক হিসেবে মূলধারায় সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বরাদ্দকৃত সরকারি সহায়তা ও সরঞ্জামের সঠিক ব্যবহার করে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়।
উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ওই দিন কলমাকান্দা উপজেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অর্ধেকেরও বেশি পরিবারের মাঝে বিভিন্ন উপহার ও আর্থিক অনুদান হস্তান্তর করা হয়। এর মধ্যে ৪২ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর যাতায়াত সহজ করতে বাইসাইকেল প্রদান করা হয় এবং ২৮ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীকে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সেলাই মেশিন দেওয়া হয়।
শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ঝরে পড়া রোধে তিনটি স্তরে মোট ২৮৩ জন শিক্ষার্থীকে নগদ অর্থ উপবৃত্তি হিসেবে দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরের (প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি) ১৪১ জন শিক্ষার্থীকে ৩ হাজার টাকা করে, মাধ্যমিক স্তরের (ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি) ৮৫ জনকে ৫ হাজার টাকা করে এবং উচ্চমাধ্যমিক স্তরের (একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি) ৫৭ জন শিক্ষার্থীকে ৭ হাজার টাকা করে উপবৃত্তি প্রদান করা হয়। এছাড়া গৃহহীন পরিবারগুলোর স্থায়ী আবাসন নিশ্চিত করতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নয়টি পরিবারের মাঝে নতুন তৈরি বসতঘরের চাবি হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথির মধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুখময় সরকার, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের সরাসরি সরকারি সহায়তা সামাজিক বৈষম্য দূর করতে এবং সমতল ভূমির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।