অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
বস্ত্র খাতের দীর্ঘদিনের নানা সমস্যা নিরসন ও খাতটিকে গতিশীল করার লক্ষ্যে অর্থ উপদেষ্টা এবং বাণিজ্যমন্ত্রীর সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। টেক্সটাইল খাতের সার্বিক উন্নয়ন, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট নিরসন এবং আর্থিক জটিলতা দূর করতে এই কমিটি কাজ করবে। বুধবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিটিএমএ প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল।
সাক্ষাৎ শেষে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের মুখোমুখি হয়ে বিটিএমএ সভাপতি জানান, টেক্সটাইল বা বস্ত্র খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো হঠাৎ তৈরি হয়নি, বরং এগুলো অনেক পুরোনো। তিনি বলেন, এর আগে যেসব সরকার দায়িত্বে ছিল, তারা কেউই এসব সংকট সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি বা টেকসই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর টেক্সটাইল খাতের উন্নয়নে বাস্তবসম্মত এবং যুক্তিভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করেছে। তবে বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয়। সরকারি পর্যায় থেকে পুরোদমে কাজ শুরু হলেও সংকট কাটিয়ে পুরোপুরি ইতিবাচক পরিস্থিতিতে পৌঁছাতে অন্তত দেড় বছর সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। শিল্প খাতের অগ্রগতির স্বার্থে উদ্যোক্তারা নতুন সরকারকে এই সময় দিতে প্রস্তুত বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে টেক্সটাইল মিলের মালিকদের প্রধান প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা, জ্বালানি মূল্যের স্থিতিশীলতা এবং ব্যাংক ঋণ ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত আর্থিক জটিলতা নিরসনের বিষয়টি আলোচনায় প্রাধান্য পায়। বস্ত্র খাতের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রশ্নে সরকারের আন্তরিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বিটিএমএ সভাপতি বলেন, সরকার এরই মধ্যে রপ্তানি খাতে ৫ শতাংশ প্রণোদনা নিশ্চিত করেছে, যা প্রস্তুতকারকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির কারণ হয়েছে। সরকার যদি নীতিগত সহায়তা এবং পর্যাপ্ত জ্বালানি নিরাপত্তা অব্যাহত রাখে, তবে অচিরেই এ খাত সংকট কাটিয়ে আগের রূপ লাভ করতে পারবে।
বৈঠকে বন্ধ হয়ে যাওয়া টেক্সটাইল মিলগুলো পুনরায় চালুর জন্য সরকারের নেওয়া বিশেষ উদ্যোগ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। শিল্প প্রতিনিধিরা জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্ধ থাকা বস্ত্র কারখানাগুলো যদি পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হয়, তবে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এর ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে গতিশীলতা ফিরবে এবং বেকারত্ব দূরীকরণে এটি বড় অবদান রাখবে।
তবে কারখানা চালুর উদ্যোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের চ্যালেঞ্জগুলোও মাথায় রাখার ওপর তাগিদ দেওয়া হয়। বিশেষ করে বিশ্ববাজারে যে অসাধু প্রতিযোগিতা ও পণ্যের অবৈধ মূলছাড় বা ‘ডাম্পিং’ নীতি দেখা যায়, তা মোকাবেলায় সরকারকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। দেশীয় শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে আমদানি নীতির সংশোধন ও স্থানীয় কারখানাগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিটিএমএ নেতৃত্ব।
বস্ত্র খাত হলো বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এই শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ হিসেবে কাজ করে দেশের টেক্সটাইল মিলগুলো। নতুন গঠিত উচ্চপর্যায়ের এই কমিটি দ্রুত নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন শুরু করলে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাত দ্রুত অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।