বাংলাদেশ ডেস্ক
সারাদেশে হাম এবং হামের উপসর্গজনিত রোগে গত ২৪ ঘণ্টায় ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ভাইরাসটিতে নতুন করে ১ হাজার ৩৭ জন আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন তালিকায় যুক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রদত্ত সর্বশেষ স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক সময়ে সংগৃহীত এই নতুন তথ্যসহ চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও এর বিভিন্ন উপসর্গজনিত জটিলতায় ভুগে মোট ৮০৩ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। মৃত শিশুদের মধ্যে চিকিৎসাগত পরীক্ষায় সরাসরি হাম শনাক্ত হয়েছিল ৯৫ জনের শরীরে। অবশিষ্ট ৭০৮ জন শিশু নিশ্চিত শনাক্ত না হলেও হামের প্রাদুর্ভাবভিত্তিক তীব্র উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
গত ২৪ ঘণ্টার প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, হামের নিশ্চিত সংক্রমণ ধরা পড়েছে ১৩৩ জন শিশুর শরীরে, অন্যদিকে ৯০৪ জন শিশু রোগটির বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে নতুন করে তালিকাভুক্ত হয়েছে। চিকিৎসাসেবার সার্বিক চিত্র পর্যালোচনায় জানা যায়, একদিনে নতুন করে ৮৩৪ জন আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত শিশু দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। অপরদিকে পূর্ববর্তী সময়ে ভর্তি থাকা রোগীদের মধ্যে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৮৮৩ জন শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত চার মাসেরও বেশি সময়ে সারাদেশে মোট ১ লাখ ২০ হাজার ৩৫২ জন শিশুকে হাম বা এর কাছাকাছি উপসর্গযুক্ত রোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ও চিকিৎসাগত মূল্যায়নের মাধ্যমে ১৪ হাজার ৮৪১ জন শিশুর দেহে নিশ্চিতভাবে হামের উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে ১ লাখ ৩ হাজার ৭৮ জন শিশু গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে বাধ্য হয়। তাদের মধ্যে সুস্থতা লাভ করায় ৯৯ হাজার ২৯৪ জন শিশুকে ছাড়পত্র প্রদান করে নিজ নিজ বাসায় ফেরত পাঠানো হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট অঞ্চলে একই সময়ে ব্যাপকসংখ্যক শিশু আক্রান্ত ও ভর্তি হওয়ায় রোগ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা এবং উপসর্গ দেখা দেওয়ার মাত্রই শিশুদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ভাইরাসজনিত এই রোগের বিস্তার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর তদারকি আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।