আইন আদালত ডেস্ক
বগুড়ার সদর উপজেলায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। চিকিৎসায় জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার ওই নারী বর্তমানে প্রায় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
আটক ব্যক্তিরা হলেন বগুড়া সদর উপজেলার ফাপোড় ইউনিয়নের ফাপোড় পূর্বপাড়া গ্রামের আজিজুল সোনারের ছেলে আলমগীর হোসেন (৪৫) এবং মৃত আকবর আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম (৫০)। এ ঘটনায় অভিযুক্ত অপর ব্যক্তি একই এলাকার বাসিন্দা ও বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের কর্মচারী মাহবুবুর রহমান (৪২) বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছেন। তার স্বামী একটি আইনি মামলায় দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। ওই সময়ের সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময়ে ওই নারীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ভুক্তভোগীর স্বামী জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফেরার পর স্ত্রীর শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে নির্যাতনের বিস্তারিত ঘটনা প্রকাশ পায়।
ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে স্থানীয় জনতা দুই অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে আটক করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদেরকে হেফাজতে নেয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অপরাধে জড়িত থাকার প্রাথমিক অভিযোগে দুজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পলাতক অপর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর ওপর এ ধরনের নির্যাতন একটি গুরুতর অপরাধ। অপরাধীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ভুক্তভোগী পরিবারকে আইনি সহায়তা দিতে পুলিশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং অভিযোগ দায়ের হওয়া মাত্রই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভুক্তভোগী নারীর প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।