আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মুখে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান কমান্ডার-ইন-চিফ জেনারেল ওলেক্সান্দর সিরস্কিকে পদচ্যুত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে জেনারেল মাইখাইলো ড্রাপাতিকে। এছাড়া শীর্ষ পদে বড় ধরনের রদবদলের অংশ হিসেবে সম্প্রতি অপসারণ করা সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইখাইলো ফেদোরভকে পুনরায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বিশেষ টেলিভিশন ভাষণে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট এই শীর্ষ সামরিক রদবদলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। ভাষণে জেলেনস্কি জানান, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সেনাপ্রধান জেনারেল মাইখাইলো ড্রাপাতি ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর সামগ্রিক কমান্ড কাঠামো পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নের কাজ তদারকি করবেন। উদ্ভাবনী কৌশল ও রণক্ষেত্রে দক্ষ নেতৃত্বের জন্য ড্রাপাতি ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীতে বিশেষভাবে পরিচিত।
এই সিদ্ধান্তের পটভূমিতে ছিল দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া তীব্র জনরোষ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা। সম্প্রতি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে মাইখাইলো ফেদোরভকে সরিয়ে দেওয়া হলে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন প্রধান শহরে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে আসেন। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণ মাত্রার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর এটিই ছিল ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ ও সংকটের ঘটনা। বিক্ষোভকারীরা ফেদোরভকে পুনরায় বহালের দাবি জানান এবং দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেন। তারা হুঁশিয়ারি দেন যে, এই দাবি পূরণ না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্দোলন জোরদার করা হবে। এই পটভূমিতে আন্দোলনকারীদের শান্ত করা এবং সামরিক নেতৃত্বের ওপর জন আস্থা ফিরিয়ে আনাই জেলেনস্কির এই নতুন পদক্ষেপে প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিদায়ী সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কির অবদানের কথা স্মরণ করে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। বিশেষ করে যুদ্ধের শুরুর দিকে রাজধানী কিয়েভ রক্ষা করা এবং ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে আকস্মিক ও সফল পাল্টা আক্রমণ পরিচালনায় সিরস্কির অসামান্য নেতৃত্বের প্রশংসা করেন তিনি। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সেটিই ছিল রুশ ভূখণ্ডে কোনো বিদেশী সামরিক বাহিনীর প্রথম বড় ধরনের প্রবেশ।
জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, “আমরা একটি দীর্ঘ ও কঠিন পথ অতিক্রম করেছি এবং ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। রণক্ষেত্রে লড়াইরত আমাদের প্রতিটি সেনাসদস্য সম্মান ও শ্রদ্ধার দাবিদার।” বিদায়ী সেনাপ্রধান সিরস্কিসহ যুদ্ধক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনকারী সকল সেনাসদস্যের প্রতি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘায়িত এই যুদ্ধে ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নেতৃত্বের এই আমূল পরিবর্তনের মাধ্যমে সরকার আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ প্রশমন করতে পারবে এবং সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নের মাধ্যমে যুদ্ধের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে সক্ষম হবে বলে কিয়েভ প্রশাসন আশা করছে।