অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্রখাতের বর্তমান পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এ খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বুধবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বস্ত্রখাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা ও সমাধানের লক্ষ্যে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আলোচনায় দেশের সামগ্রিক তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের বর্তমান অবস্থা, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্ভাবনা এবং শিল্পমালিকদের মুখোমুখি হওয়া নানা চ্যালেঞ্জ বিস্তারিতভাবে স্থান পেয়েছে। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা জাতীয় অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক এবং টেক্সটাইল খাতের অবদানের কথা তুলে ধরে এর টেকসই বিকাশে নীতিগত সহায়তার অনুরোধ জানান। বিশেষ করে জ্বালানি সংকট, বৈশ্বিক মন্দা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার ওপর তারা গুরুত্বারোপ করেন।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় অর্থনীতি পুনর্গঠন, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বস্ত্রখাতের অগ্রণী ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, সরকার দেশের এ বৃহত্তম রপ্তানিমুখী খাতের টেকসই উন্নয়নে সব ধরনের নীতিগত ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রাখবে। শিল্প মালিকদের উত্থাপিত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য একটি বিশেষ দিকনির্দেশনা দেন তিনি, যার অংশ হিসেবেই তাৎক্ষণিকভাবে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের সিংহভাগই আসে পোশাক ও বস্ত্রখাত থেকে। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক দেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এ ধরণের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। সরকারের এই নতুন কমিটি গঠন শিল্প খাতের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা স্থানীয় মিলগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল জোরদার করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
উক্ত বৈঠকে বিটিএমএ-এর প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন সংগঠনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিটিএমএ সহ-সভাপতি শামীম ইসলাম, সাবেক সভাপতি এ. মতিন চৌধুরী, সাবেক পরিচালক সৈয়দ এনায়েত কবির, ইঞ্জিনিয়ার রাজীব হায়দার, পরিচালক চৌধুরী মোহাম্মদ হানিফ সোয়েব এবং বিশিষ্ট শিল্পপতি বাদশা মিয়া। এছাড়া দেশের শীর্ষস্থানীয় বস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আমানত শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান হেলাল মিয়া এবং মুন্নু ফেব্রিক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামিউল ইসলাম বৈঠকে অংশ নেন।