অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বুধবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এই বৈঠক শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব জাহিদুল ইসলাম রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চলতি মেয়াদের জাতীয় উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কৌশল নির্ধারণে এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। এতে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা অংশ নিয়েছেন। বৈঠকে বিভিন্ন খাতের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি নতুন ও সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
একনেক হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সংক্রান্ত সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা। জাতীয় পরিষদের নির্ধারিত লক্ষ্য ও নীতিমালার আলোকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের নতুন প্রকল্প যাচাই-বাছাইপূর্বক অনুমোদন দেওয়াই এ কমিটির মূল কাজ। সাধারণত অবকাঠামো নির্মাণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়ন কেন্দ্রিক প্রকল্পগুলো একনেক সভায় আলোচনার প্রাধান্য পায়।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় অর্থনীতির বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে সময়োপযোগী প্রকল্প গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে, বর্তমানে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণ এবং একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প নির্বাচনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যেসব প্রকল্প দ্রুত সমাপ্ত করা সম্ভব এবং জনকল্যাণে প্রত্যক্ষ অবদান রাখবে, সেগুলো বাস্তবায়নে অর্থায়নের অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে।
প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা, অপচয় রোধ করা এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে কড়া নির্দেশনা রয়েছে। বিগত সময়গুলোতে অনেক প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ার কারণে অতিরিক্ত বাজেট বাড়ানোর প্রয়োজন হতো, যা জাতীয় রাজকোষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করত। ফলে বর্তমান প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
একনেকের বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো সাধারণত সরকারের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নীতি ও বাজেটের সামগ্রিক কাঠামোর একটি স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটায়। বৈঠকে যেসব প্রকল্প অনুমোদিত হবে, সেগুলো কেবল নির্দিষ্ট অঞ্চলের ভৌত অবকাঠামোর উন্নতিই করবে না, বরং আঞ্চলিক সংযোগ স্থাপন ও সার্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। বিশেষ করে পরিবহন ও বিদ্যুৎ খাতে নতুন বিনিয়োগ দেশের বেসরকারি খাতে ব্যবসার ব্যয় কমাতে সহায়তা করবে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একনেক বৈঠক শেষে বিকেলে পরিকল্পনা মন্ত্রী বা সচিবালয়ের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বিবরণ, ব্যয় এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা সংবাদমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল ও ত্বরান্বিত করতে জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলোতে দ্রুত ছাড় দেওয়া অব্যাহত থাকবে।