বিশেষ প্রতিবেদক
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ‘স্ক্যাম সেন্টার কম্পাউন্ড এবং আন্তঃদেশীয় সংগঠিত অপরাধবিষয়ক আঞ্চলিক শীর্ষ সম্মেলনে’ সক্রিয় অংশগ্রহণ ও ব্যস্ত কার্যদিবসের মধ্য দিয়ে সফর সমাপ্ত করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
রয়্যাল থাই পুলিশের সার্বিক সহযোগিতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী (২০-২১ জুলাই) এই বৈশ্বিক সম্মেলনটি আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন কৌশলের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
উক্ত সম্মেলনে আয়োজক সংস্থা এফবিআইয়ের পরিচালক ক্যাশ প্যাটেলসহ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ২০টি দেশের পুলিশ প্রধানগণ এবং ১০৯ জন উর্ধ্বতন প্রতিনিধি দল অংশ নেন। সম্মেলনে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা দেওয়া সাইবার স্ক্যাম, মানব পাচার, ক্রিপ্টোকারেন্সি জালিয়াতি এবং আন্তঃদেশীয় সংগঠিত অপরাধী চক্রের নেটওয়ার্ক ভাঙার বিষয়ে আলোকপাত করা হয়।
আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় গড়ে ওঠা অনলাইন ভিত্তিক অপরাধ চক্রগুলোর তৎপরতা বন্ধে সম্মিলিত পদক্ষেপের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা তথ্য বিনিময়, পারস্পরিক আইনি সহায়তা এবং যৌথ অভিযানের কৌশল নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন।
সম্মেলনের সমাপনী দিনে বাংলাদেশ পুলিশের প্রধান মো. আলী হোসেন ফকির বিভিন্ন দেশের পুলিশ প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে মিলিত হন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার, আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধ চক্র প্রতিরোধ এবং ভুক্তভোগীদের সহায়তায় দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ডিজিটাল অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজন সদস্য দেশগুলোর পুলিশ বাহিনীর মধ্যে কৌশলগত সমন্বয় জোরদার করবে। বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এই শীর্ষ পর্যায়ের অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত মিত্রতার ক্ষেত্র প্রসারিত করতে ভূমিকা রাখবে।