আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাত দেশের আঞ্চলিক জোট ‘বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের’ (বিমসটেক) সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য, ভ্রমণ, পর্যটন এবং সার্বিক পারস্পরিক যোগাযোগ নতুন মাত্রায় উন্নীত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংস্থাটির মহাসচিব ইন্দ্র মণি পান্ডে।
রাজধানীর বিমসটেক সচিবালয়ে কূটনৈতিক সাংবাদিকদের সংগঠন ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিকাব)-এর সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বিমসটেক মহাসচিব এই তথ্য জানান।
আলোচনা সভায় বিমসটেক মহাসচিব জানান, সদস্য রাষ্ট্রগুলো বর্তমানে একটি সমন্বিত ‘ভিসা সহজীকরণ স্কিম’ চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এ সংক্রান্ত নীতিমালায় বেশ কিছু প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে প্রস্তাবিত কাঠামোয় কী কী সুবিধা বা শর্ত যুক্ত থাকবে, সে বিষয়ে সব সদস্য দেশের ঐকমত্য এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এ কারণে চুক্তির বিস্তারিত রূপরেখা এখনই প্রকাশ্যে আনা সম্ভব হচ্ছে না।
আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি, পর্যটন খাতের বিকাশ এবং জনমানুষের সংযোগ বাড়াতে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করার বিকল্প নেই। মূলত এই প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেই গত বছর অনুষ্ঠিত ভিসা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ দলের বৈঠকে একটি সর্বসম্মত স্কিম প্রণয়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ বিষয়ে দেশগুলোর নীতিনির্ধারক পর্যায়ে আলোচনা চলমান রয়েছে।
মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মহাসচিব বলেন, আগামী মাসগুলোতে বহুপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্র তৈরি ও বিভিন্ন বৈশ্বিক চুক্তি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জিত হবে। বাণিজ্য চুক্তি সহজীকরণ একটি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রেই যেখানে নানা কৌশলগত জটিলতা নিরসনে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়, সেখানে একাধিক দেশের স্বার্থ ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার রক্ষা করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো তুলনামূলক কঠিন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রতিটি দেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও কিছু নির্দিষ্ট অগ্রাধিকার থাকে। সে বিষয়গুলোকে সমন্বিত করে একযোগে কাজ করতে হয় বলেই মুক্ত বাণিজ্য আলোচনার চূড়ান্ত ফল পেতে কিছুটা বেশি সময় লাগছে। তবে বিমসটেকের অখণ্ডতা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিচারে সব দেশই সমঝোতায় পৌঁছাতে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমারকে নিয়ে গঠিত বিমসটেক জোটটি বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গঠন এবং আঞ্চলিক যাতায়াত ব্যবস্থা সুগম করার লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। প্রস্তাবিত নতুন ভিসা স্কিমটি অনুমোদিত হলে জোটের অভ্যন্তরে ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের ভিসা প্রাপ্তির জটিলতা অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক ও বাণিজ্য বিশ্লেষকরা।