ক্রীড়া প্রতিবেদক
ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী প্রতিভা অন্বেষণমূলক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্বের খেলা শুরু হয়েছে। আজ রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত সৈয়দ নজরুল ইসলাম সুইমিং কমপ্লেক্সে সাঁতার ইভেন্টের মধ্য দিয়ে এ জাতীয় আসরের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সুইমিং কমপ্লেক্সে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
উদ্বোধনী পর্বে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আমেনা বেগম, অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুল আলম খান এবং সাঁতার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আমিনুল হক দেওয়ান সজলসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও ক্রীড়া সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক প্রতিযোগিতা আয়োজনের বিস্তারিত পটভূমি তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে উদীয়মান ক্রীড়াবিদদের খুঁজে বের করার লক্ষ্যে সরকারের নির্দেশনায় গত ২ মে সিলেট থেকে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর প্রাথমিক পর্ব শুরু হয়েছিল। পর্যায়ক্রমে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের সফল আয়োজন শেষে এখন জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ক্রীড়াঙ্গন দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে খেলোয়াড়েরা একক জাতীয় পরিচয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন, যা জাতীয় সংহতি ও ঐক্যকে সুদৃঢ় করে।
প্রতিযোগিতার পরিধি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রারম্ভিক পর্যায়ে ৮টি খেলা নিয়ে এই আয়োজন শুরু হলেও বর্তমানে ভলিবল ও টেবিল টেনিস অন্তর্ভুক্ত হয়ে মোট ইভেন্ট সংখ্যা ১০টিতে উন্নীত হয়েছে। আয়োজনের প্রথম আসর চলমান থাকা অবস্থাতেই পরবর্তী মৌসুমের জন্য গত ১ জুলাই থেকে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে নতুন একটি বিভাগীয় শহর থেকে দ্বিতীয় আসরের আনুষ্ঠানিক সূচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও নিশ্চিত করেন, দেশের ৪ হাজার ৫৮৯টি ইউনিয়ন এবং ৫০৩টি উপজেলা পর্যায় থেকে দল গঠনের মাধ্যমে এই মেগা ইভেন্টকে বছরব্যাপী একটি চলমান প্রক্রিয়ায় রূপ দেওয়ার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।
যুবসমাজকে সামাজিক অবক্ষয়, মাদকের কুফল এবং ডিজিটাল ডিভাইসের অতিরিক্ত আসক্তি থেকে দূরে রাখতে শারীরিক ক্রিয়াকলাপের গুরুত্বের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। নতুন প্রজন্মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থভাবে গড়ে তুলতে নিয়মিত ক্রীড়াচর্চা প্রসারে সরকার বদ্ধপরিকর বলে ব্যক্ত করা হয়। জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ইভেন্টে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শনকারী প্রতিশ্রুতিশীল ক্রীড়াবিদদের বিশেষ প্রক্রিয়ায় বাছাই করা হবে। পরবর্তীতে এসব বাছাইকৃত ক্রীড়াবিদদের বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) নিবিড় প্রশিক্ষণের জন্য ভর্তির ব্যবস্থা করা হবে, যেখানে তাদের শিক্ষা ও ক্রীড়া প্রশিক্ষণের সার্বিক ব্যয়ভার রাষ্ট্র বহন করবে।
উদ্বোধনী কার্যক্রমের পরপরই সুইমিং কমপ্লেক্সে সাঁতারের নির্ধারিত প্রতিযোগিতাগুলো অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী সাঁতারুদের মাঝে ট্রফি ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৭ জুলাই বিকেল ৪টায় আর্মি স্টেডিয়ামে এই বহুমাত্রিক প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে, যেখানে বিজয়ী ও সেরা ক্রীড়াবিদদের আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত করা হবে।