বাংলাদেশ ডেস্ক
বান্দরবান জেলায় সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দোরগোড়ায় যথাযথ সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাসমূহের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বিচ্ছিন্ন কোনো সিদ্ধান্ত বা একক প্রচেষ্টার পরিবর্তে সম্মিলিত প্রয়াসই দুর্যোগ পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় মূল ভূমিকা রাখতে পারে।
গতকাল রাতে বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বন্যা পরবর্তী সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও করণীয় বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বান্দরবান জেলার জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌসের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলার সংসদ সদস্য সাচিং প্রু এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মাধবী মারমা। এছাড়া জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।
প্রতিমন্ত্রী সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করে বলেন, দুর্যোগের সময় কৃতিত্ব নেওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত না হয়ে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বিচ্ছিন্নভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে সেবার মান ও কার্যকারিতা ব্যাহত হয়। তাই দুর্যোগকবলিত এলাকায় ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনার সময় স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবার পারস্পরিক যোগাযোগের ঘাটতি দূর করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
পার্বত্য অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, তিন জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন সংস্থার অধীনে পরিচালিত অসংখ্য ছোট আকারের প্রকল্পের তুলনায় বড় ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। প্রকল্পগুলো যেন বিচ্ছিন্ন না হয়ে সামগ্রিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে, সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেন তিনি। তার মতে, ছোট প্রকল্পের আধিক্য উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত গতি ধীর করে দেয়, যা পার্বত্য চট্টগ্রামের ভৌগোলিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে কাম্য নয়।
রাষ্ট্রীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নমূলক কাজের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ও সময়োপযোগী ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ অব্যয়িত রেখে কোষাগারে ফেরত পাঠানোকে তিনি কোনো কৃতিত্বের বিষয় নয় বলে মন্তব্য করেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, অর্থ ফেরত যাওয়ার অর্থ হলো সংশ্লিষ্ট এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়া, যার ফলে সাধারণ জনগণ সরকারি সুফল থেকে বঞ্চিত হয়। তাই কোনো অবস্থাতেই যেন সরকারি অর্থের অপচয় না হয় এবং কাজের মান বজায় রেখে সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়, সে বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।
মতবিনিময় সভায় জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এবারের ভয়াবহ বন্যার ফলে কৃষি, অবকাঠামো ও জনজীবনে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরেন। বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা চূড়ান্তকরণ এবং দ্রুত স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রতিমন্ত্রী সভায় উপস্থিত সকল দপ্তর ও সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার মাধ্যমে বান্দরবানবাসীর কষ্ট লাঘবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।