নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মানবিক সহায়তায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। এই ত্রাণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সংগঠনের পক্ষ থেকে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় চার শতাধিক বস্তা ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমানের উদ্যোগে এবং ভারপ্রাপ্ত সহ-সভাপতি এনামুল আজিজ চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে এই ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। গত ১৪ ও ১৬ জুলাই এই কার্যক্রমের আওতায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এবং চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের কাছে ত্রাণসামগ্রী হস্তান্তর করা হয়। বন্যাকবলিত দুর্গম এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এই সহায়তা সরাসরি পুলিশ প্রশাসনের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে।
ত্রাণসামগ্রী হস্তান্তরকালে বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সহ-সভাপতি এনামুল আজিজ চৌধুরী, পরিচালক ও প্রাক্তন প্রথম সহ-সভাপতি এস. এম. আবু তৈয়ব, পরিচালক এমডি. এম. মহিউদ্দিন চৌধুরী, প্রাক্তন পরিচালক খন্দকার বেলায়েত হোসেন এবং সংগঠনের বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সিএমপি ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই কার্যক্রমে অংশ নেন।
ত্রাণ গ্রহণকালে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এবং পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিজিএমইএ’র এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করে জানান, সংগৃহীত ত্রাণসামগ্রী অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে বন্যাকবলিত পরিবারের মধ্যে বিতরণ নিশ্চিত করা হবে।
এর আগে গত ১৫ জুলাই বিজিএমইএ’র বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলা পরিদর্শন করেন। ওই সময় দুই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় এক হাজার পরিবারের মাঝে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
ত্রাণ বিতরণকালে বিজিএমইএ’র নেতারা বলেন, দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সংকটময় মুহূর্তে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো সংগঠনের অন্যতম নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। দুর্যোগ মোকাবিলায় কেবল সরকারি উদ্যোগ নয়, বরং বেসরকারি খাতের সমন্বিত অংশগ্রহণ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি। তারা জানান, বর্তমান দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির নিরসন না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা অব্যাহত রাখবে বিজিএমইএ।
তৈরি পোশাক শিল্পের টেকসই উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বিভিন্ন জাতীয় সংকটে অতীতেও বিজিএমইএ সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, দুর্যোগ কবলিত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে তাদের এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং দেশের যেকোনো সংকটে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থেকে কাজ করার প্রতিশ্রুতি বজায় রাখবে।
উল্লেখ্য, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিজিএমইএ’র মতো বাণিজ্যিক সংগঠনের এই ধরনের ত্রাণ কার্যক্রম স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।