অপরাধ ডেস্ক
অনলাইনে কনসার্টের টিকিট বিক্রির নামে প্রতারণামূলক প্রচারণা চালানো এবং আয়োজক প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ দাবির অভিযোগে মো. বখতিয়ার আবিদ খান (২১) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর রামপুরা থানা এলাকার মালিবাগ চৌধুরীপাড়া থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত বখতিয়ার আবিদ খান ওই এলাকার আব্দুল খালেক খানের ছেলে। অভিযানে তার কাছ থেকে একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, আগামী ২৪ জুলাই রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় অবস্থিত ক্রিকেটার্স একাডেমিতে পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আতিফ আসলামের একটি কনসার্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই কনসার্টের আয়োজক প্রতিষ্ঠান ‘ইভেন্ট সাজাই’ ও ‘মেইন স্টেজ আইএনসি’ টিকিট বিক্রির জন্য ‘গেটমাইটিকিট.লাইভ’-এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে গত ৮ জুলাই থেকে প্রচারণা শুরু করে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কনসার্টের প্রচারণা চলাকালীন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের নজরে আসে যে, ‘বাংলাদেশ কনসার্ট অ্যান্ড ইভেন্ট কানেক্টস’ (বিসিইসি) নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে বিভিন্ন আইডি থেকে উক্ত কনসার্টের টিকিট বিক্রির বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। বিজ্ঞাপনে পূর্বের একটি বাতিল হওয়া কনসার্টের টিকিটের ছবি ব্যবহার করা হচ্ছিল। আয়োজকদের দাবি, প্রতারক চক্রটি ভুয়া টিকিট দেখিয়ে গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করার চেষ্টা করছিল।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ফেসবুক গ্রুপটির অ্যাডমিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. বখতিয়ার আবিদ খান, যিনি ফেসবুকে ‘একে আবিদ খান’ নামে পরিচিত। আয়োজক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে গ্রুপটির ওই অ্যাডমিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি পোস্টগুলো অপসারণের বিনিময়ে ১ লাখ টাকা দাবি করেন। অভিযোগ রয়েছে, টাকা না দিলে তিনি ওই গ্রুপে ভুয়া পোস্ট অব্যাহত রাখবেন এবং কনসার্টের আয়োজকদের ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ণ করার হুমকি দেন।
এই ঘটনায় কনসার্টের আয়োজক নিশা মাহবুবা সালাম বাদী হয়ে রাজধানীর পল্টন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিআইডি অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি বিসিইসি ফেসবুক গ্রুপের অ্যাডমিন হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
সিআইডি জানায়, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে ইতিমধ্যে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এই প্রতারক চক্রের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না বা পূর্বে এ ধরনের আরও কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে সে যুক্ত ছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সংঘটিত এ ধরনের ডিজিটাল প্রতারণা রোধে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টিকিট কেনাবেচার ক্ষেত্রে বৈধ ও অনুমোদিত মাধ্যমগুলো যাচাই করার ওপর জোর দিয়েছেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা।