পরিবেশ ডেস্ক
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মো. ইকবাল হোসেন। আজ শনিবার দুপুরে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের আয়োজনে বিভাগীয় বৃক্ষমেলা উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, অক্সিজেনের যোগান নিশ্চিত করা এবং দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। সরকার আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি গাছ লাগানোর একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে নার্সারি মালিকদের উন্নতমানের চারা উৎপাদনে এখনই উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, মানসম্মত চারা উৎপাদনের মাধ্যমে নার্সারি মালিকরা যেমন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন, তেমনি দেশ ও জাতিও উপকৃত হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সাধারণ গাছের পাশাপাশি অধিক মূল্যবান বৃক্ষের চারা উৎপাদন ও রোপণে গুরুত্ব দিতে হবে। পরিকল্পিতভাবে মূল্যবান ও মানসম্মত গাছের চারা রোপণ করলে দীর্ঘমেয়াদে মানুষ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবে। বর্তমান সময়ে ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের ফলে অনেক শহরে পরিবেশ দূষণ ও অক্সিজেনের সংকট প্রকট হয়ে উঠছে। এই সংকট নিরসনে অধিক হারে গাছ লাগানোই একমাত্র কার্যকর পথ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রতিবছর পাঁচ কোটি করে গাছ রোপণের এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা গেলে সবুজ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পরিবেশ বিপর্যয়ের এই সময়ে প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্তত একটি করে ফলজ, বনজ কিংবা ঔষধি গাছ লাগানো। পরিকল্পিত বনায়ন শুধু অক্সিজেনের পরিমাণই বাড়ায় না, বরং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় জানমালের সুরক্ষায় প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে।
মেলা উদ্বোধনের আগে জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে র্যালিটি সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। উদ্বোধনের পর প্রধান অতিথি মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং সার্কিট হাউজ চত্বরে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বন বিভাগের কর্মকর্তা, পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বৃক্ষমেলায় স্থানীয় নার্সারি মালিকদের উৎপাদিত বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা প্রদর্শনী ও বিক্রয়ের জন্য রাখা হয়েছে, যা আগামী কয়েকদিন সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই আয়োজন সাধারণ মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণে আগ্রহ সৃষ্টি করবে এবং সবুজায়নের এই ধারা অব্যাহত থাকবে।