কৃষি ডেস্ক
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় তুলা চাষের প্রসার ঘটাতে কৃষকদের উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, তুলা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণালব্ধ উন্নত জাত ব্যবহারের মাধ্যমে তুলা চাষে কৃষকদের লাভবান করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।
শনিবার বিরামপুর উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের তুলার বীজ, চারা, সার ও কীটনাশক বিতরণ করা হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক এবং খেলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে তুলার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমাদের নতুন প্রজন্মের কৃষি গবেষকদের উদ্ভাবনী প্রচেষ্টায় তুলা চাষে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে হাইব্রিড জাতের তুলা চাষের মাধ্যমে কৃষকরা আগের চেয়ে অধিক ফলন পেতে সক্ষম হচ্ছেন। কৃষকদের এই লাভজনক অবস্থায় পৌঁছে দিতে তুলা উন্নয়ন বোর্ড সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় মাঠ পর্যায়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যথাযথ সহায়তা এবং সঠিক চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে তুলা চাষে কৃষকদের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিনা খাতুনের সভাপতিত্বে শতাধিক চাষির মাঝে উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড জাতের তুলার বীজ, চারা, সার ও প্রয়োজনীয় কীটনাশক বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। এছাড়া বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিন শতাধিক শিমুল ও মসলিন তুলার চারা কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সবজির বীজ ও সার প্রদানের পাশাপাশি সমাজসেবা অধিদপ্তর ১০৭ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তির চেক প্রদান করে।
তুলা চাষের ওপর গুরুত্বারোপ করে বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে তুলার অবদান অনস্বীকার্য। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রসার ও কৃষকদের কারিগরি সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে তুলা চাষকে আরও লাভজনক করে তোলা সম্ভব। এতে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
অনুষ্ঠানে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম, রংপুর বিভাগীয় উপ-পরিচালক জাফর আলী, ঠাকুরগাঁও জোনের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা সেলিনা আক্তারসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সরকার ঘোষিত এই উদ্যোগের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে কৃষকদের মধ্যে তুলা চাষের প্রতি ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। সার ও উন্নত মানের বীজ বিনামূল্যে বিতরণের এই কার্যক্রম মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে এবং তুলা উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি বিতরণের মধ্য দিয়ে শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রমকেও উৎসাহিত করা হয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের তুলার যথাযথ পরিচর্যা এবং আধুনিক কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।