প্রযুক্তি প্রতিবেদক
মানবাধিকার, নৈতিকতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ওপর ভিত্তি করে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
চীনের সাংহাইয়ে ১৭ জুলাই থেকে শুরু হওয়া চার দিনব্যাপী ‘ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কনফারেন্স (ডব্লিউএআইসি) ২০২৬’-এর অংশ হিসেবে আয়োজিত ‘হাই-লেভেল মিটিং অন গ্লোবাল এআই গভর্ন্যান্স’ সভায় তিনি এ কথা বলেন। ১৮ জুলাই অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের সভায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও বৈশ্বিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন মন্ত্রী।
সভায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী জানান, বর্তমানে সরকার দেশের বিদ্যমান ডিজিটাল নীতি ও আইনগুলোকে সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে সংস্কার কার্যক্রম চালাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অসীম সম্ভাবনাকে জনগণের আর্থ-সামাজিক কল্যাণে কাজে লাগানো এবং এর সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করার জন্য একটি শক্তিশালী ও কার্যকর শাসনকাঠামো নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, একটি সমন্বিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতি প্রণয়নের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। এই উদ্যোগের আওতায় ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি সরকারি খাতের প্রতিটি স্তরে এআই ব্যবহারের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া দায়িত্বশীল তথ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আধুনিক প্রয়োগ সম্প্রসারণ এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিকেন্দ্রীভূত ‘এআই সেন্টার অব এক্সেলেন্স’ প্রতিষ্ঠার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বৈশ্বিক এআই শাসনব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী চারটি মৌলিক অগ্রাধিকারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি নিরাপত্তা, সমতা, অভিযোজন সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির প্রধান স্তম্ভ হিসেবে চিহ্নিত করেন। উন্নয়নশীল দেশগুলোর অগ্রগতির জন্য প্রযুক্তি স্থানান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্যের সার্বভৌমত্ব এবং ন্যায্য প্রযুক্তি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ যেন কেবল প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের ওপর সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং এটি যেন মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার এবং অন্তর্ভুক্তির এক বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য যে, সাংহাইয়ে আয়োজিত এই বিশ্ব সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, শতাধিক দেশের মন্ত্রী ও প্রতিনিধিদল, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান এবং প্রযুক্তি শিল্পের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গসহ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা অংশগ্রহণ করছেন। সম্মেলনটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক ব্যবহার, এর সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং এ খাতে বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব জোরদারের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামী ২০ জুলাই এই চার দিনব্যাপী সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বর্তমান বিশ্বের শিল্পবিপ্লবের মূল চালিকাশক্তি। বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশে এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও এর সঠিক শাসনকাঠামো নিশ্চিত করা সম্ভব হলে তা জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সরকারের এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে একটি নতুন মাত্রা যুক্ত হবে এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি মানচিত্রে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুসংহত হবে।