প্রযুক্তি প্রতিবেদক
চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে বাংলাদেশে ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত সময়ে দেশে ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা ১২ কোটি ৮৯ লাখ থেকে বেড়ে ১৩ কোটি ৪১ লাখে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, আলোচ্য সময়ে প্রায় ৫০ লাখ ৮০ হাজার নতুন গ্রাহক ইন্টারনেট সেবার আওতায় যুক্ত হয়েছেন।
বিটিআরসির পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, মে মাস পর্যন্ত মোট ইন্টারনেট গ্রাহকের প্রায় ৮৯ শতাংশই মোবাইল ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল। মে মাস শেষে দেশে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৯১ লাখে, যা বছরের শুরুতে ছিল ১১ কোটি ৪২ লাখ। অর্থাৎ, নতুন ইন্টারনেট গ্রাহকদের বড় একটি অংশ মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, একই সময়ে ফিক্সড ব্রডব্যান্ড বা আইএসপি এবং পিএসটিএন গ্রাহক সংখ্যা ১ কোটি ৪৭ লাখ থেকে সামান্য বেড়ে ১ কোটি ৪৯ লাখে উন্নীত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট খাত বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বর্তমান সময়ের বড় বৈশ্বিক ক্রীড়া ইভেন্ট ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ফুটবল ম্যাচ দেখার প্রবণতা ইন্টারনেট ট্রাফিক ও গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। মোবাইল ফোনে বিশ্বকাপের ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার বা স্ট্রিমিং দেখার কারণে ডেটা ব্যবহারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন ম্যাচে দর্শকদের ব্যাপক অংশগ্রহণের ফলে ইন্টারনেট ট্রাফিকের রেকর্ডও হয়েছে। পাশাপাশি, বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকা এবং ঈদের ছুটিতে ডিজিটাল যোগাযোগ বৃদ্ধি পাওয়াও ইন্টারনেট ব্যবহারের হার বাড়াতে সহায়তা করেছে।
গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে নীতিগত পরিবর্তনের প্রভাবও রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মোবাইল ফোনের সিমে আরোপিত ৩০০ টাকার কর পুরোপুরি প্রত্যাহার করার ফলে নতুন মোবাইল সংযোগ নেওয়ার হার বেড়েছে। এর ফলে সক্রিয় মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত সক্রিয় মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা ১৮ কোটি ৫৮ লাখ থেকে বেড়ে ১৮ কোটি ৮৬ লাখে পৌঁছেছে। এই পাঁচ মাসে নতুন সক্রিয় মোবাইল গ্রাহক যুক্ত হয়েছেন ২৮ লাখ।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের আগস্ট মাস থেকে দেশে সক্রিয় মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পাওয়ার একটি প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছিল। যা চলতি বছরের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। তবে বছরের শুরু থেকে সেই ধারার বিপরীতে নতুন করে প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফেব্রুয়ারি মাসে সাময়িকভাবে ইন্টারনেট ও মোবাইল গ্রাহক সংখ্যায় কিছুটা নিম্নগতি দেখা গেলেও মার্চ মাস থেকে তা পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী হয়।
অপারেটর ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, মে মাস শেষে গ্রামীণফোনের গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৫৯ লাখে। এছাড়া রবি আজিয়াটা ৫ কোটি ৮২ লাখ, বাংলালিংক ৩ কোটি ৭৭ লাখ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিটক ৬৮ লাখ ১০ হাজার গ্রাহক নিয়ে সেবা প্রদান করছে। আলোচ্য সময়ে অন্য সব অপারেটরের গ্রাহক সংখ্যা বাড়লেও একমাত্র টেলিটকের গ্রাহক সংখ্যা সামান্য হ্রাস পেয়েছে। টেলিটকের গ্রাহক সংখ্যা জানুয়ারি মাসে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার থেকে কমে মে মাসে ৬৮ লাখ ১০ হাজারে নেমেছে।
বিটিআরসির সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো সিম কার্ডে ৯০ দিনের মধ্যে অন্তত একবার ভয়েস কল, এসএমএস অথবা ইন্টারনেট সেশন সম্পন্ন হলে তাকে সক্রিয় গ্রাহক হিসেবে গণ্য করা হয়। কর প্রত্যাহার এবং ডিজিটাল সেবার প্রসারের ফলে আগামী মাসগুলোতেও টেলিযোগাযোগ খাতের এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।