পরিবেশ ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইট উৎপাদনের ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন। পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা প্রদান করেন। আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চামেলী হলে আয়োজিত এই সভায় বায়ু ও শব্দদূষণ রোধের সামগ্রিক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে সভাপতিত্বকালে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের নির্মাণ খাতে ইটভাটার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর ফলে সৃষ্ট বায়ুদূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে, ইটভাটা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া ও ধূলিকণা নিয়ন্ত্রণে কঠোর তদারকি এবং বিকল্প প্রযুক্তি অবলম্বনে উদ্যোক্তাদের উদ্বুদ্ধ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধিদের এ বিষয়ে দ্রুত কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
রাজধানী ঢাকার বায়ু ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও বৈঠকে ব্যাপক আলোচনা হয়। যানবাহনের অযাচিত হর্ন ব্যবহারের ভয়াবহতা রোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শব্দদূষণ রোধে বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) সম্বলিত ক্যামেরার মতো প্রযুক্তি হর্ন নিয়ন্ত্রণেও কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে সভায় বিস্তারিত পর্যালোচনার প্রস্তাব করা হয়েছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে যান চলাচল ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব বলে সভায় মত প্রকাশ করা হয়।
ঢাকার সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি রাজধানী থেকে ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ এবং অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া নিঃসরণকারী বাস, ট্রাকসহ সব ধরনের যানবাহন দ্রুত অপসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সড়ক নিরাপত্তার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, রাজধানীতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং যানজট নিরসনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আরও ৫০টি পয়েন্টে অটোমেটিক ট্রাফিক লাইট সিস্টেম স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থাপনা স্বয়ংক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকে উপস্থিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা পরিবেশ রক্ষায় তাদের নিজ নিজ সংস্থার কর্মপরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ রোধে আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয়ের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ সভায় অংশগ্রহণ করেন।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের সামগ্রিক বায়ু ও শব্দদূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। বিশেষ করে নির্মাণ শিল্পে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রসার এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার এই উদ্যোগ জনস্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নে নিয়মিত তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সামগ্রিকভাবে, টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের এই দূরদর্শী পদক্ষেপ জাতীয় পর্যায়ের একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।