অপরাধ ডেস্ক
রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় চাঁদাবাজি এবং গুলিবর্ষণের অভিযোগে তানিম রেজা ওরফে বাপ্পিসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। শুক্রবার মতিঝিলের হোটেল পূর্বাণী সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, সাত রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, একটি ইলেকট্রিক শক গান এবং একটি বিদেশি চাইনিজ কুড়াল জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলেন—মোহাম্মদ জুয়েল (৪৮), শাকিল (২৭), মো. মানিক কাজী (৫০) এবং রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে রিজন (৩৫)। শনিবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মতিঝিল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে দক্ষিণ কমলাপুরে কোরবানির পশুর হাটের এক ইজারাদার ব্যবসায়ীর অফিস লক্ষ্য করে একদল সন্ত্রাসী অতর্কিত গুলিবর্ষণ করে। এই ঘটনার সূত্রপাত মূলত ১৫ মে, যখন ওই একই ব্যবসায়ীর কাছে একটি বিদেশি নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদার টাকা না দিলে ওই ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
ব্যবসায়ীর দায়ের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে মতিঝিল থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়। মামলাটি তদন্তের একপর্যায়ে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে তানিম রেজা বাপ্পি ও তার সহযোগীদের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে। এর প্রেক্ষিতে শুক্রবার বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত তানিম রেজা বাপ্পি একজন পেশাদার অপরাধী। তার বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, দস্যুতা, অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মোট সাতটি মামলা চলমান রয়েছে। তার অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত করা এবং এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্র ও সরঞ্জামের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
মতিঝিল জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এই চক্রটির সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা উদ্ঘাটনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন ও চাঁদাবাজির অভিযোগে নতুন করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মতিঝিল থানা কর্তৃপক্ষ। মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের রিমান্ডে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে পরিচিত মতিঝিলে এ ধরনের অস্ত্র উদ্ধার ও চাঁদাবাজ চক্রের গ্রেফতার বড় ধরনের অপরাধমূলক তৎপরতা প্রতিরোধে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে ডিএমপি সূত্রে জানানো হয়েছে।