রাজধানী ডেস্ক
বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কার্যকর এবং গণতন্ত্রের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। এই লক্ষ্য অর্জনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোর সক্রিয় ভূমিকা এবং আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণের ওপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনে বাজেট অ্যানালাইসিস অ্যান্ড মনিটরিং ইউনিটের (বামু) উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাজেট হেল্পডেস্ক ২০২৬’-এর সপ্তম ব্রিফিং সেশনে আলোচনাকালে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংসদীয় কার্যপ্রণালী এবং বাজেট প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন করার লক্ষ্যে এই বিশেষ সেশনের আয়োজন করা হয়।
চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রতি দেশ ও জনগণের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। একটি জবাবদিহিমূলক এবং কার্যকর সংসদীয় ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সংসদ সদস্যদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিই হলো আলোচনা, সমালোচনা এবং আইন প্রণয়নের মাধ্যমে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা।
সংসদের অভ্যন্তরীণ তদারকি ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে চিফ হুইপ সংবিধান ও কার্যপ্রণালী-বিধি অনুযায়ী বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির ভূমিকা বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন। বিশেষ করে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত কমিটি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটির কার্যক্রমের ওপর তিনি আলোকপাত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এই কমিটিগুলোর ভূমিকা অনস্বীকার্য। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো যদি নিয়মিত বৈঠক ও কার্যকর তদারকি বজায় রাখে, তবে দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং সুশাসন জোরদার করা সম্ভব হবে।
একই দিনে অনুষ্ঠিত ‘বাজেট হেল্পডেস্ক ২০২৬’-এর অষ্টম ব্রিফিং সেশনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি ‘স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিষ্ঠানসমূহঃ সকল স্তরে বাজেট বরাদ্দ’ শীর্ষক বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তথ্যবহুল আলোচনা করেন। প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, তৃণমূল পর্যায়ে সুষম বাজেট বণ্টন এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সঠিক বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এই ব্রিফিং সেশনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং বাজেট বরাদ্দ ও সংসদীয় কার্যপ্রণালী সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন অংশীজনরা সেশনে উপস্থিত ছিলেন।
সংসদীয় বিশ্লেষকদের মতে, প্রতি অর্থবছর বাজেট পেশের পর নতুন সংসদ সদস্যদের জন্য এই ধরণের হেল্পডেস্ক ও ব্রিফিং সেশন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে সংসদ সদস্যরা জাতীয় বাজেটের জটিল কারিগরি দিক, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ এবং সংসদীয় কমিটির কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করেন। এর ফলে সংসদীয় অধিবেশনে বাজেট আলোচনা আরও ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক হয়, যা প্রকারান্তরে দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখে।