বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যা বলেন তা-ই করেন এবং তাঁর কাছে কোনো ধর্মীয় বিভেদ নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী এবং বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বাবু বিজয় কান্তি সরকার। শনিবার রাতে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের চরকুশুন্ডা সর্বজনীন কালীমন্দিরে আয়োজিত কালীপূজা ও ভক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ দেশের কল্যাণে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজয় কান্তি সরকার বলেন, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একধরনের আশঙ্কার মধ্যে ছিলেন, কিন্তু বাস্তবে ক্ষতিকর কিছু ঘটেনি। লন্ডন থেকে তারেক রহমান এবং দেশের অভ্যন্তর থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সুরক্ষায় অত্যন্ত শক্ত অবস্থান নেওয়ায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারেনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে নানা ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন জেলায় সশরীরে পরিদর্শন করেও এসব গুজবের কোনো সত্যতা বা ভিত্তি পাওয়া যায়নি। স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের আদর্শের ধারাবাহিকতায় তারেক রহমান অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর এবং কোনো অপশক্তিই দেশের এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে পারবে না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবিরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই ভক্ত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দুকল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান বাবু তপন মজুমদার, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সত্যেন কান্ত পণ্ডিত ভজন এবং জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোশতাক হোসেন দিপু।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিতকরণে মাঠপর্যায়ে এ ধরনের সমাবেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বক্তারা সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং যেকোনো ধরনের উসকানি বা গুজব প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
মন্দির কমিটির সভাপতি গৌরাঙ্গ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন প্রণব শাখারী। আলোচনা সভা ও ধর্মীয় সমাবেশ শেষে উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।