বিশেষ প্রতিবেদক
শৃঙ্খলার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) চলতি বছর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার পিজিআর-এর ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রী বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব, আনুগত্য ও শৃঙ্খলার সমন্বয়ে অর্পিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে বিশেষভাবে নির্বাচিত ও প্রশিক্ষিত সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত পিজিআর একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। বাহিনীর দক্ষতা ও একনিষ্ঠতা কার্যক্রমের মাধ্যমেই প্রতিফলিত হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনী দেশ ও জনগণের সাহস ও গৌরবের প্রতীক।
বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশ ও ভূ-রাজনৈতিক কারণে সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন যুদ্ধ এবং তথ্যযুদ্ধের মতো নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পিজিআরসহ প্রতিটি বাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকতে হবে। কৌশল ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে পিজিআরকে আরও সমৃদ্ধ করার বিষয়ে তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টি বিবেচনায় রাখার নির্দেশ দিয়ে তারেক রহমান বলেন, রাজধানী ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি ও জনসভায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জটিল কাজ। তবে নিরাপত্তা কৌশল এমনভাবে প্রণয়ন করতে হবে যাতে সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা বজায় থাকার পাশাপাশি জনগণের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে জনগণ যেন সরকারপ্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন বোধ না করেন, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার ওপর নির্ভরতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পিজিআর ও এসএসএফের মতো বিশেষায়িত বাহিনীগুলোকে আরও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে এবং এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সশস্ত্র বাহিনী দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখলে দেশের সার্বভৌমত্ব সর্বদা সুরক্ষিত থাকবে। বাহিনীর সর্বোচ্চ সফলতার জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল, প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন এবং কঠোরভাবে ‘চেইন অফ কমান্ড’ অনুসরণের জন্য তিনি নির্দেশনা প্রদান করেন।